ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাঙালি দর্শন কী? বাঙালি দর্শন কী প্রকৃত দর্শন? আলোচনা কর।

অথবা, বাঙালি দর্শন বলতে কী বুঝ? বাঙালি দর্শনকে কী যথার্থ অর্থে দর্শন বলা যায়? আলোচনা কর।
অথবা, বাঙালি দর্শনের পরিচয় দাও। বাঙালি দর্শন কি দর্শন হিসেবে সার্থক।
অথবা, বাঙালি দর্শনের সংজ্ঞা প্রদানপূর্বক এ দর্শনের যথার্থতা প্রতিপাদন কর।
উত্তরা৷। ভূমিকা :
বাঙালির দর্শনচিন্তার ইতিহাস সুপ্রাচীন। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি বিজাতি ও বিদেশি শাসন কর্তৃক শাসিত হলেও নিজস্ব মননসাধনার ব্যাপারে সে সবসময়ই ছিল স্বতন্ত্র। বাঙালি দর্শনে বিভিন্ন জাতির চিন্তাধারার প্রভাব লক্ষ করা যায়। প্রত্যেক চিন্তাধারার সাথে বাঙালি তার নিজস্ব চিন্তার সমন্বয় করে নিজস্ব দর্শন গড়ে তুলেছে। তাই বাঙালির চিন্তাধারায় প্রাচীনকাল থেকেই পাশ্চাত্য ও প্রতীচ্যের চিন্তাধারা স্থান দখল করে আছে। তবুও বাঙালি দর্শনের ইতিহাসের প্রাথমিক যুগ পর্যালোচনা করলে এ দর্শনকে সমৃদ্ধ দর্শন বলা যায়। প্রাচীন যুগের দর্শন সম্পর্কে বাঙালি
চিন্তাবিদদের মধ্যে যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। তবে বাঙালি দর্শনের বিকাশে এ যুগের চিন্তাভাবনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
বাঙালি দর্শন : ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায় অন্যান্য প্রাগ্রসর জাতির মতো বাঙালির দর্শন চিন্তাও ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে বিভিন্নভাবে বিকশিত হয়েছে। বাঙালির দর্শনের তিন যুগে (প্রাচীন, মধ্য এবং আধুনিক) বাঙালি দর্শন বিভিন্নভাবে বিকশিত হয়ে জগজ্জীবনের স্বরূপ ও গূঢ়ার্থ আবিষ্কার এবং যথার্থ মানবোচিত জীবনের অনুসন্ধানসহ মানুষকে নিয়ে মানুষের ভাবনা বাঙালির দর্শনচিন্তায় একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যরূপে দেখা দিয়েছে। তাই বলা যায়, বাঙালি দর্শন হলো বাঙালির ধ্যানধারণা, চিন্তা, মনন, ভাবধারা, মতামত, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ইত্যাদির সংমিশ্রণ।
বাঙালি দর্শন নিছক দুঃখবাদী কিংবা ভাববিলাসী দর্শন নয়; বাঙালি দর্শন হলো জগৎ ও জীবনের সাথে সম্পর্কিত দর্শন। তাই বলা যায়, বাংলা ও বাংলার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় রূপ ও রসের মাধুর্যে আপ্লুত হয়ে মরমি চেতনায় উদ্ভূত যে দর্শন তাকেই বাঙালি দর্শন বলে অভিহিত করা হয়।
প্রামাণ্য সংজ্ঞা : বিভিন্ন দার্শনিক বিভিন্নভাবে বাঙালির দর্শনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। নিম্নে তাঁদের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করা হলো :
বাঙালির দর্শনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ড. প্রদীপ কুমার রায় বলেছেন, “যে প্রজ্ঞাময় দর্শন বাংলাদেশের আবহমানকালের বিশাল পটভূমিতে, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে এ সময় পর্যন্ত বিবর্তিত হয়েছে তাই বাঙালির দর্শন।”
অধ্যাপক সাইদুর রহমান বাঙালি দর্শন সম্পর্কে বলেন, “বাঙালি দর্শন কেবল সমদর্শন নয়, খালি পরলোক চর্চা নয়,তত্ত্ববিদ্যার নিছক রোমন্থন ও কসরত নয়, পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের যে কোনো সার্থক দর্শনের ন্যায় বাঙালি দর্শনও মূলত জীবনদর্শন, উন্নত মানবজীবন প্রণয়ন ও যাপনের উপায়ানুসন্ধান।”
অধ্যাপক মফিজউদ্দিন আহমেদ বাঙালি দর্শন সম্পর্কে বলেন, “বাঙালি দর্শন মুক্তি বা মোক্ষলাভকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।”
সুতরাং উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, বাঙালির দর্শন হলো বাঙালির শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিন্তাচেতনা, মনন ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচিত জীবনদর্শন।
বাঙালির দর্শন যথার্থ দর্শন কি না : অতি প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিককাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বিভিন্ন তাত্ত্বিক চিন্তাধারার উন্মেষ ও অনুপ্রবেশ ঘটেছে। বাঙালির দার্শনিক ঐতিহ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর মধ্যে প্রাক বৈদিক চিন্তাধারা, বেদ বিরোধী চিন্তাধারা, ইসলামি চিন্তাধারা, দেশজ মরমি চিন্তাধারা ও পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারা বিদ্যমান। এসব চিন্তাধারার মধ্যে প্রাক বৈদিক লোকায়ত দর্শন বা চার্বাক দর্শন এবং পাশ্চাত্যের অনুপ্রবিষ্ট ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারা ছাড়া অন্যান্য তাত্ত্বিক চিন্তাধারা পারলৌকিক চিন্তাধারাকে নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। এতে জীবন ও জগৎ বিষয়ক সমস্যাদির উত্তর খোঁজা হয়েছে।এক বৈদিক চিন্তাধারা আবর্তিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট ধর্মকে কেন্দ্র করে। সুতরাং ঊনবিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ পাশ্চাত্য দর্শনের চিন্তাধারা এখানে না আসা পর্যন্ত বাঙালির দর্শন ছিল ধর্মবিশ্বাস কেন্দ্রিক। সেজন্য এ দর্শনকে বিশুদ্ধ না বলে ধর্ম দর্শন বা ধর্ম প্রভাবিত দর্শনরূপে চিহ্নিত করা যেতে পারে।প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে তবে বাংলাদেশে দার্শনিক আলোচনায় ধর্মের প্রাধান্য থাকার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এ দেশ মানবজাতির চারটি প্রধান ধর্মের অর্থাৎ মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধধর্মের মিলনস্থল। বাংলাদেশে প্রাক বৈদিক ধর্মের সাথে উক্ত চারটি ধর্মেরই মিলন ঘটেছে এবং এগুলো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও লাভ করেছে। তবে ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশে দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে এক নবদিগন্তের সূচনা হওয়ার ফলে অন্ধ কুসংস্কার ও শাস্ত্রের আনুগত্য থেকে মুক্তির প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে অনেকটা মুক্তচিন্তার অধিকারী হয়ে কয়েকজন চিন্তাবিদ দর্শন চর্চায় এগিয়ে আসেন। এসব চিন্তাবিদদের মধ্যে স্যার ব্রজেন্দ্রনাথ শীল, হরলাল হাওলাদার, কে. সি. ভট্টাচার্য ও হরিদাস ভট্টাচার্যের নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁরা সবাই ছিলেন ভাববাদী। এসব চিন্তাবিদদের ভাবধারা প্রখ্যাত দার্শনিক ড. জি. সি. দেবের লেখনীতেও ফুটে উঠে। তবে ড. জি. সি. দেব প্রচলিত অর্থে শুধু ভাববাদী ছিলেন না। তিনি ভাববাদ ও বস্তুবাদের মধ্যে একটা সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করে গেছেন। সেদিক থেকে তাঁর দর্শন হচ্ছে ‘সমন্বয়ী ভাববাদ’। শুধু ভাববাদই নয়, এ দেশের দর্শন আলোচনায় বস্তুবাদও স্থান পেয়েছে। এক্ষেত্রে আরজ আলী মাতুব্বরের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা ভূখণ্ডে দার্শনিক চিন্তাধারার বিকাশ ঘটেছে। অনেকে এসব চিন্তাধারার পুরো অংশকে দর্শন চর্চা বলতে না চাইলেও একথা স্বীকার করেন যে এ চিন্তাভাবনা থেকেই বাঙালি দর্শনের মূলভিত্তি রচিত হয়েছে। বাঙালি দর্শন শুরুতে জড় বা বস্তুবাদী হলেও মধ্যযুগে ধর্ম ভিত্তিক এবং বর্তমানে পাশ্চাত্য ভাবধারাপুষ্ট দর্শনে পরিণত হয়েছে। সার্বিক বিচারে বাঙালি দর্শনকে সমৃদ্ধ দর্শন বলা যায়।আধুনিক ও সমকালীন বাঙালি দার্শনিকগণ বাঙালি দর্শনকে এ সমৃদ্ধি দান করেছেন। যে কোন যথার্থ দর্শনের সকল দিক বাঙালি দর্শনেও বিদ্যমান।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!