ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাঙালি দর্শনে মনুসংহিতার প্রভাব মূল্যায়ন কর।

অথবা, মনুসংহিতার যেসব চিন্তাধারা বাঙালি দর্শনের উপর প্রভাব রাখে তা আলোচনা কর।
অথবা, বাঙালি দর্শনচিন্তায় মনুসংহিতার ভূমিকা বা অবদান আলোচনা কর।
অথবা, বাঙালি দর্শনতত্ত্বে মনুসংহিতার প্রভাব বর্ণনা কর।
অথবা, বাঙালি দর্শন সৃষ্টিতে মনুসংহিতার প্রভাব বর্ণনা কর।
অথবা, ‘মনুসংহিতার চিন্তাধারা বাঙালি দর্শনে প্রভাব বিস্তার করেছে’- ব্যাখ্যা কর।
অথবা, ‘বাঙালি দর্শনে মনুসংহিতার প্রভাব রয়েছে’— ব্যাখ্যা কর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, অন্যান্য অনেক অগ্রসরমান জাতির মতো বাঙালির দর্শন চিন্তাও ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে বিভিন্নভাবে বিকশিত হয়েছে। বাঙালি দর্শন প্রাচীন, মধ্য, আধুনিক- এ তিন যুগে বিভক্ত। এ তিন যুগে বাঙালি দর্শনচিন্তা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। জগৎ ও জীবনের স্বরূপ ও গূঢ়ার্থ আবিষ্কার এবং যথার্থ মানবোচিত জীবনের অনুসন্ধানসহ মানুষকে নিয়ে মানুষের ভাবনা বাঙালির দর্শনচিন্তায় একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যরূপে দেখা দিয়েছে আদি যুগে।
বাঙালি দর্শনে মনুসংহিতার প্রভাব : বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, পুরাণ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থের মত বাঙালি দর্শন মনুসংহিতা দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছে। মনুসংহিতার অনেক বিষয় দ্বারা বাঙালি দর্শন অলংকৃত হয়েছে। নিম্নে বাঙালি দর্শনে মনুসংহিতার প্রভাব আলোচনা করা হলো :
১. মনুসংহিতার প্রধান লক্ষ্য : মানুষের স্বরূপ, তার লক্ষ্য ও পরিণতি সর্বোপরি তার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে মনুসংহিতায় বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মনুসংহিতার প্রধান লক্ষ্য হলো ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ নামে মানুষের পরম আদর্শরূপে যে চতুর্বর্গের কথা বলা হয়েছে, তাদের স্বরূপ এবং সেগুলো লাভ করার প্রণালী সম্পর্কে আলোচনা করা। মনুসংহিতায় প্রাচীন ঐতিহ্যের ভিত্তিতে ভারতবর্ষকে সামাজিক সংস্কৃতির উৎস অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে অবস্থিত কতকগুলো অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
২. মানবসমাজের শ্রেণিবিভাগ : মনুসংহিতার বর্ণনা অনুযায়ী মনু মানবসমাজকে ভাগ করেন এবং প্রতিটি বর্ণের কর্তব্য ও অধিকার নির্দিষ্ট করেছেন। এ চতুর্বর্ণ আবার দ্বিজাতি এবং একজাতি এ দু’ভাগে বিভক্ত। উপনয়নস্বরূপ সংস্কার দ্বারা দ্বিতীয় জন্মপ্রাপ্ত ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যরা মনুস্মৃতিতে দ্বিজাতি আর শূদ্ররা একজাতিরূপে পরিচিত। এ দু’জাতির অন্তর্ভুক্ত ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র ছাড়া অন্য কোনো বর্ণের সামাজিক স্বীকৃতি ছিল না।
৩. চতুর্বর্ণের উৎপত্তি : ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র ছাড়া সমাজে আর যারা ছিল মনু তাদেরকে বর্ণ সঙ্কর জাতি বলে উল্লেখ করেছেন। চতুর্বর্ণের উৎপত্তি সম্পর্কে মনু বলেছেন, রক্ষার জন্য ব্রহ্ম তাঁর মুখ থেকে ব্রাহ্মণ, বাহু থেকে ক্ষত্রিয়, উরু থেকে বৈশ্য এবং পা থেকে শূদ্র সৃষ্টি করে তাদের জন্য পৃথক পৃথক ধর্ম নির্দিষ্ট করে দেন।”
৪. চতুর্বর্ণের কাজ : মনুসংহিতায় চতুর্বর্ণের কাজ সম্পর্কেও বর্ণনা করা হয়েছে। ব্রাহ্মণের কাজ হচ্ছে অধ্যাপনা,অধ্যয়ন, যজন, যাজন, দান ও প্রতিগ্রহ। ক্ষত্রিয়ের কাজ হচ্ছে প্রজাপালন, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন এবং সাংসারিক বিষয়ে অনাসক্তি। পশুপালন, দান, যজ্ঞ,অধ্যয়ন, বাণিজ্য এবং কৃষিকর্ম বৈশ্যের কাজ। আর আসূয়া ত্যাগ করে অপর তিনবর্ণের সেবা করাই হচ্ছে শূদ্রের প্রধান কাজ।
৫. সাধারণ কর্ম নির্ধারণ : উক্ত চার বর্ণের মধ্যে মনুসাহিত্য ব্রাহ্মণকেই শ্রেষ্ঠ বর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। প্রতিটি বর্ণের জন্য পৃথক পৃথক কর্ম নির্দিষ্ট করা হলেও প্রথম তিন বর্ণের জন্য মনুসংহিতায় দশটি সাধারণ কর্মের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ধৃতি, ক্ষমা, ইন্দ্রিয় নিগ্রহ, অস্তেয়, পবিত্রতা, সংযম, বুদ্ধি, বিদ্যা, সত্য এবং অক্রোধ।
৬. আশ্রমধর্মের ব্যাখ্যা : মনুসংহিতায় আশ্রমধর্ম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। মনুর মতে, বর্ণধর্ম যেমন সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত করে, আশ্রমধর্মও তেমনি মানবজীবনকে পরিচালনা করে। মনুসংহিতায় আশ্রমধর্মকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যথা : ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বাণপ্রস্থ এবং সন্ন্যাস। নিম্নে এ চতুরাশ্রম সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
ক. ব্ৰহ্মচর্য : ব্রহ্মচর্যে ব্রহ্মচারীকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা : উপকুর্বান ও নৈষ্ঠিক। যিনি উপকুৰ্বান ব্রহ্মচর্য পালন করতেন তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত গুরুগৃহে বাস করে শিক্ষা গ্রহণ করতে হতো। আর যিনি নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচর্য পালন করতেন তাকে আজীবন গুরুগৃহে বাস করে শিক্ষা গ্রহণ করতে হতো। ব্রহ্মচারীদেরকে কঠোর নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে জীবনযাপন করতে হতো। তাদের আহার্য, পোশাক পরিচ্ছদ ও আচারব্যবহারের উপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল । গুরুসেবা, বেদানুশীলন ও যাগযজ্ঞের অনুষ্ঠান ছিল ব্রহ্মচারীর প্রধান কর্তব্য।
খ. গার্হস্থ্যাশ্ৰম : মনুসংহিতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে গার্হস্থ্যাশ্রম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মনু গার্হস্থ্যাশ্রমকে সকল আশ্রমের শ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছেন। ব্রহ্মচর্য পালন শেষে গুরুগৃহ থেকে পিতৃগৃহে প্রত্যাবর্তন করে উপযুক্তা, সুলক্ষণা, সুবর্ণা কন্যার পানি গ্রহণ করে সংসারী হওয়ার নামই হচ্ছে গার্হস্থ্যাশ্রম। এছাড়াও গার্হস্থ্যাশ্রমের আলোচনায় বিবাহ এবং যাগযজ্ঞ সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
গ. বাণপ্রস্থ : মনুসংহিতার ষষ্ঠ অধ্যায়ে বাণপ্রস্থ ও সন্ন্যাস আশ্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে । গার্হস্থ্যাশ্রম পালন শেষে মানুষ যখন পঞ্চাশ বছর বয়সে বনবাসী হয় তখনই তাকে বলে বাণপ্রস্থ। গার্হস্থ্যাশ্রমে প্রকৃতিমার্গের যবনিকা আর বাণপ্রস্থাশ্রমে নিবৃত্তিমার্গের সূচনা। এ আশ্রমে মানুষকে অরণ্যবাসী হয়ে অরণ্যের ফলমূল খেয়ে জীবনধারণ করতে হয়। এ সময় তাকে হরিণের চামড়া, বল্কল প্রভৃতি পরিধান করে কেশ, নখ প্রভৃতি ধারণ করতে হয়। এ আশ্রমেও কায়মনোবাক্যে নিয়মিত বেদানুশীলন অবশ্য কর্তব্য এবং অবশ্যই তাকে সহনশীল, মিত্রভাবাপন্ন,সংযতচিত্ত, সর্বদা দাতা, পতিগ্রহ থেকে নিবৃত্ত এবং সকল প্রাণীর প্রতি দয়াশীল হতে হয়।
ঘ. সন্ন্যাস : মানবজীবনের সর্বশেষ আশ্রম হচ্ছে সন্ন্যাস। দেব ঋণ, ঋষি ঋণ, পিতৃ ঋণ— এ তিনটি ঋণ পরিশোধ করার পরই মানুষের, মোক্ষের সাধনায় বা সন্ন্যাস আশ্রমে যাওয়া উচিত। এ আশ্রমে সাধককে সকল প্রকার জাগতিক বিষয় থেকে এমনকি নিজের দেহ ও ইন্দ্রিয় থেকেও মনকে বিযুক্ত করে পরমেশ্বরের ধ্যানে নিমগ্ন থাকতে হয়। এ অবস্থায় তিনি সর্বজীবের প্রতি সমদৃষ্টিসম্পন্ন হন। কেউ তাঁর প্রতি শত্রুতা করলেও তিনি তার বিরাগভাজন হন না।
ঙ. সত্যের প্রতি গুরুত্বারোপ : মনুসংহিতায় সত্যকে লালন এবং অনুশীলনের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে মনুসংহিতার মতানুযায়ী, সত্য অপেক্ষা শ্রেষ্ঠধর্ম আর কিছু নেই। অবশ্য যেখানে জীবনমৃত্যুর প্রশ্ন জড়িত, সেখানে অসত্য ভাষণকে ক্ষমার চোখে দেখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “সত্য কথা বলবে,প্রিয় কথা বলবে, অপ্রিয় সত্য বা মনোহারী মিথ্যা কথা বলবে না, এটাই সনাতন নিয়ম।”
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, মনুসংহিতা মানুষের স্বরূপ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।মনুসংহিতায় মানবসমাজকে চারটি ভাগে ভাগ করেছেন এবং প্রত্যেক ভাগের মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। মনুসংহিতার এসব বিষয় বাঙালি দর্শনের দার্শনিক চিন্তায় বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। তাই বাঙালি দর্শনে মনুসংহিতার প্রভাব কোনভাবে অস্বীকার করা যায় না।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!