ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাঙালি দর্শনে উপনিষদের প্রভাব আলোচনা কর।

অথবা, বাঙালি দর্শনচিন্তায় উপনিষদের প্রভাব আলোচনা কর।
অথবা, বাঙালি দর্শনতত্ত্বে উপনিষদের প্রভাব বা ভূমিকা বা অবদান বর্ণনা কর।
অথবা, বাঙালি দর্শন সৃষ্টিতে উপনিষদের প্রভাব আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশ দর্শনে উপনিষদের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
অথবা, উপনিষদ কিভাবে বাঙালি দর্শনকে প্রভাবিত করেছে আলোচনা কর।
উত্তর।। ভূমিকা :
ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, অন্যান্য অনেক অগ্রসরমান জাতির মত বাঙালির দর্শন চিন্তাও ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে বিভিন্নভাবে বিকশিত হয়েছে। বাঙালি দর্শন প্রাচীন, মধ্য, আধুনিক এ তিন যুগে বিভক্ত। এ তিন যুগে বাংলাদেশের দর্শনচিন্তা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। জগৎ ও জীবনের স্বরূপ ও গূঢ়ার্থ আবিষ্কার এবং যথার্থ মানবোচিত জীবনের অনুসন্ধানসহ মানুষকে নিয়ে মানুষের ভাবনা বাঙালির দর্শনচিন্তায় একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যরূপে দেখা দিয়েছে সকল যুগে। তবে তার পূর্বে উপনিষদ কি তা জানা প্রয়োজন।
উপনিষদের পরিচিতি : উপনিষদ বলতে গুরুর সামনে শিষ্য উপবিষ্ট হয়ে বসে যে বিদ্যা বা জ্ঞান লাভ করে তাকে বোঝানো হয়। বেদের যাবতীয় দার্শনিক আলোচনা উপনিষদে স্থান পেয়েছে। বেদের শেষে উপনিষদ এর অবস্থান হওয়ায় একে বেদান্ত বলা হয় (বেদান্ত নামো উপনিসৎ)।
১. উপনিষদের প্রারম্ভিকা: পণ্ডিতদের মতে, উপনিষদ ভারতীয় ঋষিমুনি, সাধু সন্ন্যাসী ও যোগী তপস্বী তথা ক্রান্তদর্শী মনীষীদের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। তবে গবেষকরা অনুমান করেছেন জীবনকে উপভোগ করার জন্য বৈদিক যুগের প্রথম দিকে মানুষের ঝোক ছিল বেশি, যার দরুন আত্মার প্রতি তেমনটা জোর দেওয়া হয় নি। সে সময়কার মানুষের মনে একটা অস্পষ্ট ধারণা ছিল যে, দেহাবসানের পর কোনো না কোনো প্রকারের অস্তিত্ব আছে। কিন্তু পরবর্তীকালে তাদের মধ্যে ঈশ্বর সম্বন্ধে কৌতূহল জাগে। এ কৌতূহলের পথ ধরেই মানুষের মনে স্বর্গ লোকের অধিবাসীদের মত শক্তিশালী ধীরভাবাপন্ন দেবতার ধারণা জাগ্রত হয়। তারপরে আসে একেশ্বরবাদ এবং তার রেও মানব মনে একেশ্বরবাদের সাথে মিশ্রিতভাবে অদ্বৈতবাদের ধারণা জন্ম লাভ করে। এ অদ্বৈতবাদের ধারণা থেকেই মানব মনে আসে চিরন্তন জিজ্ঞাসা, প্রকৃত জ্ঞান লাভের আকাঙ্ক্ষা। উপনিষদের সূচনা হয় এ আকাঙ্ক্ষা থেকেই।
২. উপনিষদ একটি অদার্শনিক গ্রন্থ : কোনো স্বগ্রন্থিত দার্শনিক গ্রন্থ উপনিষদ নয়। যেসব ক্রান্তদর্শীয় উপলব্ধ সত্য উপনিষদে স্থান পেয়েছে, তাদের বড় পরিচয় তাঁরা অতীন্দ্রিয় সত্যদ্রষ্টা, দর্শনের গবেষক নয়। বাঙালি দর্শনে উপনিষদ একটি ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। বেদের সর্বশেষ পর্যায়ই হচ্ছে উপনিষদ।
৩. উপনিষদে তত্ত্বালোচনা কম : তত্ত্বালোচনাকে উপনিষদে কম প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কাহিনী, ব্যাখ্যা, আখ্যান,উপাখ্যান, উপদেশ, অনুব্যাখ্যা, ঘরোয়া আলাপ আলোচনা ও কথোপকথনের আকারে তারা উপনিষদগুলো রচনা করেছেন।এ কারণে উপনিষদে কাব্যগুণ অপেক্ষা তত্ত্বালোচনা কম।
৪. উপনিষদের সংখ্যা ও নাম : উপনিষদের সংখ্যা অনেক। প্রাচীনকালে এ সংখ্যা কম থাকলেও কালের চক্রে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক পণ্ডিতদের মতে, উপনিষদের জন্ম হয়েছিল বৈদিক যুগে এবং ব্রাহ্মণের এক অপরিহার্য অঙ্গরূপে। বেদের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় আমরা মাত্র সাতটি উপনিষদ দেখতে পাই। পলডয়সেন ১৬টি প্রাচীন উপনিষদের উল্লেখ করেছেন। তবে এর মধ্যে দু’টি অজ্ঞাত। চৌদ্দটি উপনিষদ প্রাচীন উপনিষদরূপে স্বীকৃত। এগুলো হলো :
১. ঈশ উপনিষদ ২. ঐতরেয় উপনিষদ
৩.কৌষীতকি উপনিষদ ৪. তৈত্তিরীয় উপনিষদ
৫. ছান্দ্যোগ্য উপনিষদ ৬. বৃহদারণ্যক উপনিষদ
৭. কেন উপনিষদ ৮. কঠ উপনিষদ
৯. শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ১০. প্রশ্ন উপনিষদ
১১. মুণ্ডক উপনিষদ ১২. মাণ্ডুক্য উপনিষদ
১৩. মৈত্রায়নী উপনিষদ ও ১৪. মহানারায়ণ উপনিষদ।
অন্যদিকে, সম্রাট শাহজাহানের বড় পুত্র ‘দারা’ ফারসি ভাষায় উপনিষদের যে অনুবাদ করেন তা পঞ্চাশের মধ্যে
সীমাবদ্ধ ছিল !
উপনিষদের প্রভাব : নিম্নে আলোচ্য প্রশ্নানুসারে বাঙালি দর্শনে উপনিষদের প্রভাব আলোচনা করা হলো :
১. উপনিষদ মানব মনের অনুসন্ধান : উপনিষদে আমরা যে মানব সমীক্ষা লক্ষ্য করি জিজ্ঞাসা হচ্ছে তার মূল অনুপ্রেরণা, সত্যের সন্ধানে পরমোৎসাহে মানব মনের অনুসন্ধান। তার এ অনুসন্ধানের অন্ত নেই। সে জানতে চায় মানুষ কি, মানুষের ভিত্তি কি, মানুষের মধ্যে এমন সারধর্ম কি আছে, যাকে বাদ দিলে সে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য কি, সে আরও জানতে চায় কার আদেশে মন আপন স্থানে এসে বসেছে, কার ভয়ে প্রথম জীবনটি অগ্রসর হয়েছে,মানুষ যে তার বাক্যকে প্রেরণ করে এ কার আদেশে, বায়ু কেন স্থির হয়ে থাকতে পারে না, মানুষের চিত্ত কেন চঞ্চল সে আরও জানতে চায় কি এ বিশ্ব, কি হতে এর উৎপত্তি, কোথায় তা চলেছে, এতে মানুষের স্থান কি, এগুলো মানব মনের জিজ্ঞাসা।নব মনের সমীক্ষা করতে গিয়ে উপনিষদে এসব জিজ্ঞাসারই উত্তর প্রদানের প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।
২. মানবাত্মাকে ব্রহ্মের সমার্থক ঘোষণা : উপনিষদের ঋষিরা মানবাত্মাকে ব্রহ্মের সমার্থক ঘোষণা করেন এবং মানুষকে সৃষ্টির সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করেছেন। মানব সমীক্ষা করতে গিয়ে উপনিষদে তাই ঘোষণা করা হয়েছে, মানুষের মৌলিক পরিচয় তার দেহে নয়, দেহের অভ্যন্তরস্থ আত্মায়। আত্মা দেহের মত নশ্বর নয়। মানবাত্মা চিরন্তন ও শাশ্বত পরমাত্মারই অংশবিশেষ।
৩. আত্মা ও ব্রহ্ম অভিন্ন : বৃহদারণ্যক উপনিষদের একটি বচনে আত্মা ও ব্রহ্মের অভিন্নতা সুস্পষ্ট হয়েছে। মাণ্ডুক্য উপনিষদে বলা হয়েছে, এ যা কিছু আছে, তা সবই ব্রহ্ম, আত্মা ও ব্রহ্ম এক এবং এ আত্মা চতুষ্পদ। তত্ত্বমসি মহাকাব্যের দ্বারা ব্যক্তি ও প্রাকৃতিক জগতকে একই পরমাত্মা বা ব্রহ্মের প্রকাশ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং ঘোষণা করা হয়েছে ব্রহ্মের সাথে এদের কোনো ভেদ নেই।
৪. মোক্ষ লাভ মানুষের চরম লক্ষ্য : উপনিষদ অনুযায়ী ব্রহ্মের সাথে একাত্মবোধ মানবজীবনের চরম লক্ষ্য, এ পঞ্চভৌতিক জগৎ, জগতের যাবতীয় বিষয় ও ঘটনাবলি, মানুষ সবই আত্মা ‘চ ব্রহ্ম সম্ভূত’ এবং এ ব্রহ্মেই শেষ পর্যন্ত তারা প্রত্যাবর্তন করে। মানুষ চিরতরে ব্রহ্মের মধ্যে আশ্রয় পেতে পারে, ব্রহ্মের সাথে মিলিত হয়ে তার মধ্যে নিজেকে বিলীন করে দিতে পারে। আর এটাই মানুষের নৈতিক কর্তব্য। এতেই মানুষের মোক্ষ বা মুক্তি নিহিত। মোক্ষ লাভের পূর্ব পর্যন্ত মানুষকে বার বার পৃথিবীতে আসতে হয়। তাই মোক্ষ লাভ মানুষের চরম লক্ষ্য।
৫. উপনিষদ কর্মবাদে বিশ্বাসী : কর্মবাদ অনুসারে প্রতিটি কর্মই ফল প্রসব করে। প্রতিটি মানুষকেই তার ভালো বা মন্দ কর্মের ফল ভোগ করতে হয়। এটাই কর্মবাদের মূলকথা। যার উপলব্ধি সঠিক, সে নিষ্পাপ ও জিতেন্দ্রিয়, সে এমন গন্তব্যে পৌঁছায়, যেখান থেকে আর পুনর্জন্ম হয় না। যে ব্যক্তি মোক্ষ লাভের উপযোগী সে ব্যক্তি অবশ্যই উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী।
৬. দেবতা, অসুস্থ এবং মানব : বৃহদারণ্যক উপনিষদে দেবতা, অসুর ও মানব- এ তিন শ্রেণির জীবকে যথাক্রমে দয়ম, দাম্যত ও দত্ত নামে তিনটি অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। এ অনুশাসন তিনটিতে সমগ্র নীতিতত্ত্বই সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে। উপনিষদে অবশ্য এ ধরনের কথাও আছে, যিনি ব্রহ্মকে তার স্বরূপে উপলব্ধি করতে পেরেছেন তিনি সকল নিয়মের ঊর্ধ্বে। তিনি যথেচ্ছ জীবনযাপন করেন।
৭. আত্মার মুক্তি : আত্মার স্বরূপকে সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারাই আত্মার মুক্তি। কিন্তু আত্মা ভুলবশত নিজেকে অহংকার, মন এবং দেহের সাথে অভিন্ন মনে করে। আর এর ফলেই সে জন্মান্তরের চক্রলীলায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। এর জন্য আত্মার মুক্তি হয় না। আত্মার মুক্তির জন্য প্রয়োজন অবিদ্যার বিনাশ। শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন প্রক্রিয়ায় মানুষ ব্রহ্মোপলব্ধি লাভ করে অবিদ্যাকে দূরীভূত করতে পারে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, উপনিষদ বাঙালি দর্শনে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। উপনিষদ হতে বাঙালি দর্শন বহু বিষয় গ্রহণ করে বাংলা সমাজ ও দর্শনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তাই উপনিষদের অবদান বাঙালি দর্শন বিকাশে কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!