ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাউল মতের উদ্ভবকাল সম্পর্কে যা জান লিখ।

অথবা, বাউল দর্শনের ভদ্ভবের সময়কাল সংক্ষেপে লেখ।
অথবা, বাউল মতবাদের উৎপত্তির সময়কাল সম্পর্কে যা জান লেখ।
অথবা, বাউল মতাদর্শ উদ্ভবের কালক্রম লেখ।
অথবা, বাউল মতাদর্শ উদ্ভবের সময়কাল সম্পর্কে যা জান লেখ।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
বাউলবাদ বাঙালির নিজস্ব মননে বিকশিত একটি মরমি চিন্তাধারা। তাই বলা হয় বাউল ধর্ম ও দর্শন বাঙালির নিজস্ব দর্শন, নিজস্ব মননের ফসল। বাংলার এক শ্রেণির অশিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত, একতারা আশ্রয়ী, ভাববিদ্রোহী গায়ক, স্বাধীন ও সমন্বয়মূলক মরমি সাধকদের আত্মোপলব্ধিমূলক চিন্তাধারার নাম বাউল দর্শন। বাউলরা আধ্যাত্মিক ধ্যানে নিমগ্ন থাকেন, জগৎ সংসারকে উপেক্ষা করেন এবং সামাজিক আচার-আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে চলেন। সাধারণভাবে মধ্যযুগের শেষ অন্তকে বাংলায় বাউল মতের উদ্ভবকাল মনে করা হলেও এ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে বিরোধ
পরিলক্ষিত হয়।
বাউল মতের উদ্ভবকাল : হিন্দু-মুসলমানের যুক্ত সাধনা, ধর্মদর্শন মিলেই বাউল মতের উদ্ভব। বাংলার অধিকাংশ নিম্নবর্ণের নিরক্ষর অধিবাসীর দর্শন বাউল দর্শন। মরমিবাদের উর্বরভূমি বাংলার আপন আঙিনায় বাউল মতের উৎপত্তি ঘটলেও ঠিক কোনো সময়ে এ মতধারার উদ্ভব হয়েছে তার সঠিক দিনক্ষণ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। অনেকের মতে, বাউল দর্শনের মূলধারা অতি প্রাচীনকাল থেকে বাঙালির ধর্মজীবনে বর্তমান ছিল। প্রাচীন লোকায়ত, আজীবিক, বৌদ্ধ সহজিয়া, গুপ্ত, সেন যুগের বৈষ্ণব সহজিয়া, সুফিবাদ, গৌড়ীয় বৈষ্ণব ও বৈষ্ণব সহজিয়া ইত্যাদি মতের মধ্যে অনুসন্ধান করে তাঁরা প্রাচীনকালে বাউল মতের উৎস ও উদ্ভবকাল নির্ণয় করে বিশ শতক পর্যন্ত তার বিস্তৃতি ও পরিণতিকাল নির্ণয় করেন। তবে মোটামুটিভাবে সতেরো শতকের দ্বিতীয় পাদ থেকেই বাউল মতের উদ্ভব বলে মনে করা হয়। মুসলমান মাধব বিবি ও আউল চাঁদই এ মতের প্রবর্তক বলে বাউল গবেষকদের বিশ্বাস। মাধব বিবির শিষ্য নিত্যানন্দ পুত্র বীরভদ্রই বাউল মত জনপ্রিয় করেন। তবে উনিশ শতকে লালন ফকিরের সাধনা ও সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বাউল মতের পূর্ণ বিকাশ ঘটে। যাহোক নিম্নে বাউল মতের উদ্ভবকাল সম্পর্কে কতিপয় বাউল গবেষক ও পণ্ডিতের মত তুলে ধরা হলো :
অধ্যাপক রমেশ বসুর মত : রমেশ বসু ভারত ও বাংলাদেশে মুসলিম আগমন ও সুফি মতের ইসলাম প্রচারের বহুপূর্বে পাল আমলে বৌদ্ধযুগে বাউল মতের উদ্ভব কল্পনা করেন। এ মতের পক্ষে তিনি বলেন, বাউল গানে বহুল ব্যবহৃত অসংখ্য রূপক, উপমা, সান্ধ্য ভাষা ও প্রহেলিকা প্রাচীনকাল থেকেই ভারত তথা বাংলার জনগণের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। তাঁর মতো আরো কিছু পণ্ডিত বাউল মতের উৎস অতি প্রাচীনকালে অনুসন্ধান করেন কিন্তু বাউল মতের আবির্ভাবের সম্বন্ধে মধ্যযুগের কথা বলেন। এই যুগের সমর্থনে বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের ভাবধারা অনুসরণে বলা যায়, মধ্যযুগে বাউল গান ও বাউল মতের উৎপত্তি হলেও তার উৎস রয়েছে সুদূর অতীতে প্রাচীন বাংলার কৃষি সমাজে।
ড. আহমদ শরীফের মত : তাঁর মতে, মোটামুটিভাবে সতেরো শতকের দ্বিতীয় পাদ থেকেই বাউল মতের উন্মেষ কাল। তবে তিনি সতেরো শতকের মধ্যপাদ, চৌদ্দ-পনেরো শতক ও প্রাচীনকালকেও বাউল মতের উদ্ভবকাল বলে অভিহিত করেছেন। তাই বাউল মতের উদ্ভব কাল নিয়ে তাঁর প্রকৃত অভিমত যে কোনটি তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেন।
ড. মাযহারুল ইসলামের মত: তিনি মনে করেন সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে বৌদ্ধ সহজিয়া ও তান্ত্রিকতার ভগ্নাবশেষ অবলম্বন করে একটি ধর্ম সম্প্রদায় হিসেবে বাউল মতের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে। তিনি বাউলদের একটি সংগীত সম্প্রদায় হিসেবে অভিহিত করেন।
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের মত: বাউল মতের উদ্ভবকাল নির্ণয় করতে গিয়ে বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ড উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে অনুসরণ করে আনুমানিক ১৬৫০ অর্থাৎ সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে নির্দেশ করেন। ড. ভট্টাচার্যের মতো মালাধর বসুর ‘শ্রীকৃষ্ণ বিজয়’ গ্রন্থে বাউল শব্দ ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন।
অধ্যাপক আনোয়ারুল করীমের মত : অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম বলেন, আনুমানিক দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়কালকে বাউল মতবাদের উৎপত্তি কাল হিসেবে ধরে নিলে অযৌক্তিক বা অসিদ্ধ হবে না। সমাজজীবনের সাথে এ মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে পরবর্তীকালে সাহিত্য ও জনজীবনের চেতনায় একটি স্বতন্ত্র মতাদর্শ বলে স্বীকৃতি লাভ করে। তবে তিনি এও মনে করেন যে, বাউল মতের আনুমানিক উদ্ভবকাল দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দী হলেও এর উৎকর্ষ বিধান ঘটে ষোড়শ-অষ্টাদশ শতকে।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপে দেখা যাচ্ছে যে, বাউল মতের উৎপত্তি কাল নিয়ে পণ্ডিতেরা প্রকৃতই কোনো ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেননি। তাই বলা যায়, বাউল মতবাদের উদ্ভবকাল সম্পর্কে আজও কোনো নির্দিষ্ট সময় ও কাল নির্ণীত হয়নি। তবে মোটামুটিভাবে বলা যায়, সতেরো শতকের দ্বিতীয় পাদেই বাউল মতের উদ্ভব এবং উনিশ শতকে লালনের সাধনার মধ্য দিয়েই তার পূর্ণ বিকাশ।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!