ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাউল ধর্মতত্ত্ব আলোচনা কর।

অথবা, বাউল ধর্মতত্ত্ব সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
অথবা, বাউল ধর্মতত্ত্ব বর্ণনা কর।
অথবা, বাউল সাধকদের ধর্ম দর্শন সংক্ষেপে তুলে ধর।
অথবা, বাউল ধর্মতত্ত্ব কী?
উত্তর।৷ ভূমিকা :
মধ্যযুগের বাঙালির নিজস্ব মননে বিকশিত বাঙালির লোকজ ধর্ম হলো বাউল ধৰ্ম। বাংলার এক শ্রেণির অশিক্ষিত অর্ধ শিক্ষিত একতারা আশ্রয়ী, ভাববিদ্রোহী গায়ক, স্বাধীন ও সমন্বয়মূলক মরমি সাধকদের আত্মোপলব্ধি মূল চিন্তাধারাই বাউল ধর্ম ও দর্শন নামে পরিচিত। তাই বলা হয় বাউল মত বাংলার ধর্ম একান্তভাবে বাঙালির মানস ফসল। আবহমান বাংলায় বিকশিত ও প্রবেশিত নানা ধর্মমতের মূলসারের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বাউল ধর্মমত । বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের মিলিত ধর্মসাধনাই হচ্ছে বাউল ধর্ম।
বাউল ধর্মতত্ত্ব : বাউল ধর্ম বাংলার বাঙালি সমাজের এক কোণের একটি ধর্ম সম্প্রদায়ের ধর্মবিশ্বাস, অধ্যাত্মচিন্তা জগৎ ও জীবন সম্বন্ধীয় মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি ও বিভিন্ন ভাবানুভূতি, বাঙালির একটি ধর্ম সম্প্রদায়ের অন্তর্জীবনের আনন্দ বা রস অভিব্যক্তি। অর্থাৎ বাংলার এক শ্রেণির মানুষের ধর্মবিশ্বাস, ধর্মচিন্তা, অধ্যাত্মচিন্তা তথা বাঙালির সাধারণ মানুষের জীবনের অভিব্যক্তিই হচ্ছে বাউল ধর্ম। বাউলরা মূলত গানের মাধ্যমে তাঁদের ধর্ম ও জীবনচিন্তা প্রকাশ করে। বাউল গানের বিষয়বস্তু এক, একই ধর্মকথা, একই তত্ত্বকথা, একই গুরুবাদ, একই দেহতত্ত্ব, একই মনের মানুষতত্ত্ব ইত্যাদি। বাউল গানের মূল বিষয়বস্তু একটি ধর্মতত্ত্ব ও সেই ধর্ম সাধনার ক্রিয়াকলাপ। ড. উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মতে, “বাউল ধর্মসম্প্রদায় আর্য-অনার্য, হিন্দু, বৌদ্ধ ও সুফি ভাবধারার সমন্বয়ে গঠিত বাংলার একান্ত নিজস্ব একটি ধর্ম সম্প্রদায়। এ ধর্ম কোনো অভিজাত সম্প্রদায়ের ধর্ম নয়, এটা জনসাধারণের ধর্ম, লৌকিক ধর্ম।” মোঃ সোলায়মান আলী সরকার, বাংলার বাউল দর্শন, পৃ. ১৫৩] বাউল ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে যেসব দিকের সন্ধান পাওয়া যায় সেগুলো নিম্নরূপ :
বাউল ধর্ম সমন্বয়মূলক : বাউল ধর্ম বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রভাবজাত একটি সমন্বয়মূলক ধর্মমত। বাঙালির নিজস্ব মননের সাথে প্রচলিত নানা ধর্মমতের সমন্বয়ের মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে বাউল ধর্ম মত। বাংলার আদি ধর্ম তন্ত্র ধর্ম থেকে শুরু করে বৌদ্ধ, বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্ম, হিন্দুধর্ম, বৈষ্ণব, বৈষ্ণব সহজিয়া, ব্রাহ্ম ধর্ম, আজীবিক ধর্ম, ইসলাম ধর্ম, ইসলামের সুফিবাদী আদর্শ ইত্যাদি ধর্মমতের কমবেশি প্রভাব রয়েছে বাউল ধর্ম মতে। তাই দেখা যায়, বাউল ধর্মে জাতিতে জাতিতে অর্থাৎ হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধে কোনো ভেদ নেই ।
বাউল ধর্মের বিষয়বস্তু : বাউল ধর্মের বিষয়বস্তু বা প্রতিপাদ্য বিষয়গুলোর মধ্যে গুরু বা মুর্শিদের নিকট অকপট আত্মসমর্পণ, মানবের হৃদয়স্থিত ভগবান অন্তর্যামী, জীবনদেবতা, মনের মানুষ বা আল্লাহর নিকট দৈন্য, সাধনভজনের অক্ষমতার জন্য নৈরাশ্য, সাধনমার্গে দল, পদ্মচক্র, মোকাম-মঞ্জিল, ছয় বা দশ লতিফার ও লতিফাসমূহের নূর পতনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ইত্যাদি প্রধান, বাউলরা গানের মাধ্যমে প্রথমে ভগবান, মনের মানুষ, আল্লাহ দ্বীন দরদি সাঁই এর নিকট নিজের দৈন্য বা অতি প্রকাশ করে তাঁর দয়া বা করুণা প্রার্থনা করে।
বাউল ধর্ম প্রত্যাদিষ্ট নয় : বাউল ধর্ম ঐশী শাস্ত্র বা ঈশ্বর প্রত্যাদিষ্ট ধর্ম নয়। বাউলরা ঐশী শাস্ত্র বা জিব্রাইল মারফত কোনো নবীর উপর প্রত্যাদিষ্ট শাস্ত্রভিত্তিক কোনো ধর্ম বা সমাজব্যবস্থা মানে না। এ ধর্মের মূল লক্ষ্য সর্ব ধর্মের সার সমন্বয় সাধন। সব ধর্মেরই মূল লক্ষ্য আত্মার মুক্তি। আত্মার মুক্তি বা মোক্ষলাভের মূল বাণীসমূহ ও মতাদর্শের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে বাউল ধর্মীয় মতবাদ । অর্থাৎ, বাউলদের ধর্মীয় আচার রাগের আচার’ বেদ বা অন্য কোনো ধর্মীয় শাস্ত্রের আচার নয়।
শাস্ত্রের বিরোধিতা : বাউল ধর্ম মানব রচিত তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। ধর্মীয় শাস্ত্র ও শাস্ত্রনির্ভর তত্ত্বের প্রতি তাদের অনীহা সুস্পষ্ট। তারা মনে করেন, মানুষ কোনো তত্ত্ব বা শাস্ত্রের অধীন নয়। শাস্ত্র সে মানুষ প্রদত্ত বা ঈশ্বর প্রদত্ত হোক, শাস্ত্র কখনো মানুষের উপর স্থান পেতে পারে না। শাস্ত্র মানা যেমন মানুষের উচিত নয়, তেমনি শাস্ত্র প্রণয়ন করাও মানুষের কাজ নয়।
সাধন প্রণালির ভিন্নতা : বাউল ধর্মমত মূলত সাধনকেন্দ্রিক কিন্তু বাউল ধর্মমতে বিভিন্ন ধর্মতত্ত্বের ও সাধন প্রণালির প্রভাব পড়েছে বলে বাউলদের সাধন পদ্ধতিতে কোনো নির্দিষ্ট একটি পদ্ধতি অনুসৃত হয় না। সাধন প্রণালির পার্থক্যের ভিত্তিতে বাউলরা মুসলমান বাউল ও হিন্দু বা বৈষ্ণব বাউল এই দু’ভাগে বিভক্ত। কিন্তু সাধন পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকলেও সংগীতানুষ্ঠানে বা তাদের রচিত গানে হিন্দু ও মুসলমান উভয় ধর্মের মতবাদই প্রাধান্য পেয়ে থাকে। হিন্দু বাউল যেমন সুফি ভাবধারাকে তেমনি মুসলমান বাউল হিন্দু, বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব মতবাদকে মেনে ন।
বাউল একেশ্বরবাদ : বাউল ধর্মের একেশ্বরবাদী ধারণার মধ্যে কুরআনের একেশ্বরবাদ, উপনিষদের অদ্বৈতবাদ,দ্বৈতাদ্বৈতবাদ, বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ, গোড়ীয় বৈষ্ণবাদের অচিন্ত্য ভেদাভেদবাদ, সুফিদের ওয়াহদাতুল অজুদ মতবাদ,ওয়াহ্দাতুশ শহুদ মতবাদ, আলোকবাদ, আল্লাহ তত্ত্ব, নবী তত্ত্ব, গুরু তত্ত্ব, মন তত্ত্ব, আত্মা তত্ত্ব, চন্দ্র তত্ত্ব, এবাদত তত্ত্ব,রঙতত্ত্ব, ইশরাকী মতবাদ, দশ লতীফা, সত্ত-মতবাদ ইত্যাদির সমাবেশ দেখা যায়।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মতত্ত্বের প্রভাবজাত বাঙালির নিজস্ব মননে বিকশিত বাঙালির একান্ত নিজস্ব ধর্মমত হলো বাউল ধর্ম। বাংলার নিম্নবর্ণের হিন্দু ও নব্য মুসলমানদের তথা সাধারণ অশিক্ষিত বাঙালির চিন্তায় বিকশিত এ ধর্ম ও দর্শন ধারা বাঙালির মনন সাধনার ইতিহাসে এক নতুন মাত্রার সংযোজন। তাই একজন পণ্ডিত যথার্থই মন্তব্য করেছেন, “সমাজের উপর তলার লোকের ধর্ম হলে এ মতবাদ যে কেবল বাঙালির জীবন ও ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতো তা নয়। দুনিয়ার মানুষের কাছে উদার মানবিকতার জন্য বাঙালিকে শ্রদ্ধেয় করে তুলত।”



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!