ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাউলবাদের চারচন্দ্রভেদ তত্ত্ব সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।

অথবা, চারচন্দ্রভেদ কী?
অথবা, চারচন্দ্র ভেদ তত্ত্ব সংক্ষেপে আলোচনা কর।
অথবা, বাউল চারচন্দ্রভেদ তত্ত্ব সম্পর্কে যা জান লেখ।
অথবা, বাউল চারচন্দ্রভেদ তত্ত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
অথবা, বাউল চারচন্দ্রভেদ তত্ত্ব সংক্ষেপে তুলে ধর।
উত্তর।। ভূমিকা :
প্রাচীন লোকায়ত, আজীবিক, বৌদ্ধ, বৌদ্ধ সহজিয়া, গুপ্ত ও সেন যুগের বৈষ্ণব সহজিয়া, সুফিবাদ,
গৌড়ীয় বৈষ্ণব ও বৈষ্ণব সহজিয়া ইত্যাদি জীবনাদর্শের কম বেশি প্রভাবের সাথে বাঙালির নিজস্ব মননের সংমিশ্রণে সতেরো ও ঠোরো শতকের বাংলায় যে মরমি আদর্শিক ধর্ম ও দার্শনিক মতবাদের উদ্ভব ঘটে তাই বাউল দর্শন বা বাউলবাদ নামে খ্যাত।অর্থাৎ বিভিন্ন মতবাদের সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে বাউল মত। বাউল তত্ত্ব এবং সাধন প্রণালির ক্ষেত্রেও এ প্রভাব সুস্পষ্ট। বিভিন্ন ফর্মতত্ত্ব ও সাধন প্রণালির প্রভাব পড়েছে বিধায় বাউল সাধনায় কোনো একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসৃত হয় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাউল সাধন পদ্ধতিতে কিছু অভিন্ন তত্ত্বকেও স্বীকার ও অনুশীলন করা হয়। যার মধ্যে চারচন্দ্রভেদ তত্ত্ব অন্যতম।
চারচন্দ্রভেদ তত্ত্ব : চারচন্দ্রভেদ তত্ত্ব বাউল সাধনার অপরিহার্য অঙ্গ বলে মনে করা হলেও সকল সম্প্রদায়ের বাউলরা চারচন্দ্রভেদ তত্ত্ব সাধনা করে না। এমনকি সিদ্ধ বাউল হওয়ার জন্য চারচন্দ্রভেদ সাধনা অপরিহার্য বা অত্যাবশ্যক নয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাউলদের জন্য চন্দ্রভেদ অবশ্য কর্তব্য হলেও মুসলমান বাউলরা চারচন্দ্রভেদকে একই অর্থে গ্রহণ করে না বা সাধনা করে না। বলা হয় চারচন্দ্রভেদ সধনার জন্যই বাউলরা অন্যান্য সম্প্রদায় থেকে স্বতন্ত্র। বাউল মতে, মানবদেহে চারচন্দ্রের অবস্থান। দেহের মধ্যে চারচন্দ্র আছে চিরদিন। এ চারচন্দ্রই ‘আদিচন্দ্র’ শ্বেতচন্দ্ৰ,উন্মুক্তচন্দ্র ও গরলচন্দ্র বা শুক্র, রজো, বিষ্ঠা ও মূত্র। অর্থাৎ বাউলদের চারিচন্দ্র হচ্ছে শুক্র, রজো, মল ও মূত্র। অবশ্য ‘চন্দ্ৰভেদ’ কথাটি সকলের নিকট সমান অর্থ বহন করে না। চাঁদ বা চন্দ্ৰ শব্দ নানা অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন- ড. ভট্টাচার্য ‘চন্দ্র’ শব্দের বিভিন্ন ব্যবহার লক্ষ্য করেছেন, ১. শুক্র, ২. পরম তত্ত্ব, ৩. মনের মানুষ, সহজ মানুষ, ভাবের মানুষ, প্রেমের মানুষ, সোনার মানুষ, মানুষ রতন ইত্যাদি, ৪. নিষ্কাম প্রেম, প্রেম রত্ন ধন, ৫. সাধনালব্ধ প্রত্যক্ষ অনুভূতি জাত জ্ঞান, সহজ জ্ঞান, দিব্য জ্ঞান বা তত্ত্ব জ্ঞান ৬: চন্দ্রবৎ জ্যোতির্ময় পদার্থ মন ৭. দেহের চারচন্দ্র শুক্র, রজো, মল ও মূত্র। লালনের গানেও চন্দ্র বা চাঁদ শব্দের ব্যবহার হয়েছে তবে তা বাউলদের চারচন্দ্র অর্থে নয় বরং তা পরম তত্ত্ব থেকে শুরু করে নূরনবী তত্ত্ব, মানুষ রতন তত্ত্ব, এমনকি রজো বীজ, মলমূত্র, অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে এবং এ সবের মূলে রয়েছে নূর বা নূরের শ্রেষ্ঠ নূর। আবার ‘ভেদ’ কথাটিও সকলের নিকট এক অর্থ বহন করে না সকলে এক অর্থে গ্রহণ করেন না। হিন্দু বাউলদের মতে, ভেদ অর্থ ‘পান’ করা। অর্থাৎ চারচন্দ্রভেদ বলতে তাঁরা শুক্র, রজো, মল ও মূত্র এ চারটি বস্তুকে গ্রহণ বা পান করাকেই বুঝেন। হিন্দু বাউলরা অমাবস্যা পূর্ণিমা যোগে প্রকৃতি আশ্রয়ী হয়ে সাধনা করে। তাঁরা সাধনা করতে গিয়ে ত্রিবেণীর ঘাট বন্ধনা করে প্রথম দিনের প্রথম অংশে তাঁরা পাই ক্রিয়া অনুষ্ঠান করে । কখনো কখনো দুই বস্তু (শুক্র ও রজো বা রজো ও বীজ) মিশ্রিত করে পান করে। দ্বিতীয় দিনে গুরুভেদে ও সম্প্রদায়ভেদে পান করে। তৃতীয় দিনে পানক্রিয়া অনুষ্ঠান বন্ধ করে। মুসলমান বাউলরা ভেদ অর্থে পান করে না। তবে অধিকাংশ বাউল সাধক মনে করে যে, একে অন্যের চারিচন্দ্র গ্রহণে সাধক সাধিকার উভয়ের দেহই পরিপক্ক হয় এবং দেহে একটি স্থির অচঞ্চল শক্তির সঞ্চার হয়। এসব বস্তু গ্রহণের সময় সাধক সাধিকা নির্বিকার থাকে ও বিশ্বাস করে যে, ঘৃণা, লজ্জা, ভয় এ তিন থাকলে ঐকান্তিক সাধনা সম্ভব নয়। বাউল সাধনায় এ ক্রিয়া অপরিহার্য হলেও বাউলরা কদাচিৎ এ বিষয়ে সংকেত দিয়েছেন কারণ একটি তাঁদের গোপন ও গুহ্য সাধন ক্রিয়া। তবে চারচন্দ্রভেদ বাউল সাধনার অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য নয়। দুইচন্দ্ৰ সাধনা করে কিংবা সিদ্ধ অবস্থায় কোনো চন্দ্র সাধনা না করেও সিদ্ধ বাউল হওয়া যায়। এ চারচন্দ্রভেদ সাধনার জন্য বাউলরা ইঁন্দু-মুসলমান সকল সম্প্রদায়ের কাছে নিন্দিত যদিও বাউল সাধনার দৃষ্টিকোণ থেকে তা খুবই প্রশংসনীয়।
উপসংহার : অতএব, চারচন্দ্রভেদ সাধনা বাউল সাধন তত্ত্বের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলেও সকল বাউল সাধক বা সম্প্রদায় এ সাধনা করে না। এমনকি চারচন্দ্রভেদ কথার অর্থও সবার নিকট সমান নয়। এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষিতিমোহন প্রমুখ বলেছেন, “নানাপ্রকার সাধনা নিয়ে বহু সম্প্রদায় বাউল সম্প্রদায়ভুক্ত হয় এবং কোনো কোনো সম্প্রদায়ে ক্রু, রজো, বিষ্ঠা “ মূত্র’- এ চারচন্দ্র সাধনা আছে এবং এ চারচন্দ্র সাধনার জন্য তারা বৈষ্ণব সহজিয়া সম্প্রদায় হতে ভিন্ন ।”



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!