ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত কর এবং সমাধানের পরামর্শ দাও।

অথবা, বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের প্রধান ত্রুটিগুলো চিহ্নিত কর এবং কিভাবে সমাধান করা যায় মতমত দাও।
ভূমিকা : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে একটি দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকার জনসাধারণের প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত স্ব স্ব এলাকার শাসনব্যবস্থাকে বুঝায়। কেন্দ্রীয় শাসনের নিম্নস্তরে গ্রাম ও শহর এলাকার নানাবিধ স্থানীয় সমস্যা থাকে। প্রত্যেক এলাকার জনপ্রতিনিধি দ্বারা গঠিত স্থানীয় সংস্থা সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সমস্যাবলি সমাধানকল্পে বহুবিধ কাজ সম্পাদন করে।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের সমস্যাসমূহ : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার আঞ্চলিক জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত সরকার হলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়। যেমন-
১. সরকারের নিয়ন্ত্রণ : স্বায়ত্তশাসনের মূল কথাই হলো স্ব-শাসন। অর্থাৎ তাদেরকে স্বাধীনভাবে তাদের প্রশাসন চালাতে দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাড়াবাড়ি। এরা স্বশাসিত হলেও স্বাধীন নয়। তাদের এসব সংস্থা পরিচালিত হয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তবে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের পরিমাণ এত বেশি থাকে যে, এটা স্বায়ত্তশাসিত সরকার না স্থানীয় সরকার তা বোঝা যায় না।
২. আর্থিক সমস্যা : আর্থিক স্বায়ত্তশাসিত সরকারের অন্যতম প্রধান সমস্যা। স্বায়ত্তশাসিত সরকারের আয়ের প্রধান উৎসই সরকারি অনুদান। কিন্তু তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন কেন্দ্রীয় সরকার তা কখনই দেয় না। জনগণের উপর করারোপের ক্ষমতা থাকলেও এই সরকারগুলো জনসমর্থন হারানোর ভয়ে বেশি করারোপ করে না। ফলে আর্থিক সমস্যা থেকেই যায়।
৩. রাজনৈতিক অস্থিরতা : দেশের রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের প্রতি অনেক সময় মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দেয়। রাজনৈতিক কোন্দল, ঘন ঘন সরকার পরিবর্তনে স্বায়ত্তশাসিত সরকারের উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের প্রভূত ক্ষতি হয়।
৪. স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দল : স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দল বা গ্রাম্য রাজনীতি, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এর অগ্রগতির পথে হুমকিস্বরূপ। সকলের সহযোগিতায়ই স্থানীয় প্রশাসনের উন্নয়ন সম্ভব। কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হীনম্মন্যতা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি।
৫. প্রশাসনের দুর্বলতা : আমাদের সমাজে সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি বিরাজমান। জাতীয় পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি ছড়িয়ে গেছে। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে দুর্নীতির প্রভাব উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
৬. প্রশাসনের দুর্বলতা : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারকে বিপর্যস্ত অর্থনীতি, দুর্বল প্রশাসন যন্ত্র উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। ফলে সরকার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিপূর্ণ রূপরেখা প্রণয়নে ব্যর্থ হয়। ফলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার শক্তিশালী হতে ব্যর্থ হয়।

৭. জনগণের অংশগ্রহণের সমস্যা : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থায় সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার কাঠামোতে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ। অনেক সময় এটি প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের প্রভাব ক্ষেত্রে পরিণত হয়। ফলে জনসাধারণের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে আসে।
৮. রাজনৈতিক অস্থিরতা : দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সংকট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের প্রতি অনেক সময় মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দেয়। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের উপায়সমূহ : জাতীয় প্রশাসন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থাকে যথেষ্ট শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে এর বিভিন্ন সমস্যাবলিও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তাই দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সামাধন করা অত্যন্ত জরুরি। নিম্নে স্থানীয়
স্বায়ত্তশাসিত সরকারের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের উপায়সমূহ উল্লেখ করা হলো :
১. বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবে রূপদান করতে হবে। পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শুধু পরিকল্পনা প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তার যথাযথ বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকতে হবে।
২. অবয়বগত পরিবর্তন : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারকে সমস্যামুক্ত করতে হলে তার পরিচালনা, গঠন পদ্ধতি তথা অবয়বগত বা কাঠামোগত পরিবর্তন সাধন করতে হবে। কারণ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত দুর্বলতা থাকলে তা দিয়েই কখনোই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে না।
৩. কার্যকৌশলগত পরিবর্তন : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারকে অধিকমাত্রায় সচল রাখার লক্ষ্যে বাস্তবমুখী কার্যকৌশলগতনীতি গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত কিংবা প্রথাগত দিকসমূহ কম গুরুত্ব দিয়ে যুগোপযোগী এবং আধুনিকীকরণের উপর অধিক গুরুত্বারোপ করতে হবে।
৪. সরকারি পৃষ্ঠাপোষকতা বৃদ্ধি : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থার অন্যতম সমস্যা হলো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা আনুকূল্যের অভাব। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং সজাগ দৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকারী করা সম্ভব।
৫. প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ ও যথার্থ ব্যবহার : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবহারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা থাকতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং তা স্থানীয় পর্যায়ে চাপিয়ে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের কিছু করণীয় থাকে না। সেজন্য স্থানীয় সরকারের অর্থের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং আদায়ের ব্যবস্থাসহ নিজস্ব বাজেট প্রণয়নের একটি অংশ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারকে দেয়া যেতে পারে।
৬. স্থিতিশীলতা বজায় : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারগুলোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন বা বাতিল এবং পূর্ববর্তী সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পরবর্তী সরকার কর্তৃক পরিবর্তন বা বাতিলের মানসিকতা রোধ করতে হবে। এতে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং এ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করতে হবে।
৭. সুশীল সমাজের দায়িত্ব : স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জনগণের প্রতিনিধিত্বের উপর গড়ে উঠে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকরীকরণের জন্য রাষ্ট্রের সুশীল সমাজ জনগণের মধ্যে প্রতিনিধিত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে।
৮. জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থার সফল্য নির্ভর করে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ যাতে জনগণের অংশগ্রহণকে নস্যাৎ করতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণের মাধ্যমে একে আরও শক্তিশালী করণের মাধ্যমে জনগণের মঙ্গল নিশ্চিত হবে।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!