ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাংলাদেশে পলি উন্নয়নের সমস্যাবলি সমাধান করার উপায়সমূহ আলোচনা কর।

অথবা, পল্লিউন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উপায়সমূহ আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশে পল্লি উন্নয়নের সমস্যাসমূহ সমাধানের উপায় বর্ণনা কর।
অথবা, পল্লিউন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উপায়সমূহ বর্ণনা কর।
অথবা, বাংলাদেশে পল্লি উন্নয়নের সমস্যাবলি সমাধানের উপায়সমূহ তুলে ধর।
অথবা, বাংলাদেশে পলিউন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উপায় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বহুল আলোচিত ও গরুত্বপূর্ণ একটি প্রত্যয় হলো পল্লিউন্নয়ন। পল্লি উন্নয়নের মাধ্যমে একটি দেশের পল্লির জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য পল্লি উন্নয়নের সমস্যাসমূহ সমাধান করে পল্লি জনগণের আর্থসামাজিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতি তথা জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য একান্ত জরুরি। তাই এদেশের জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য পল্লি উন্নয়নের সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহের ভূমিকা অপরিহার্য।
বাংলাদেশের পল্লি উন্নয়নের সমস্যাসমূহ সমাধানের উপায়সমূহ : বাংলাদেশের পল্লি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এ সকল সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের উপর বাংলাদেশের পল্লিউন্নয়ন নির্ভরশীল। এজন্য বাংলাদেশের পল্লি উন্নয়নের সমস্যাবলি সমাধান এবং পল্লিউন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য নিম্নে সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ আলোচনা করা হলো :
১. শিক্ষার প্রসার : পল্লিউন্নয়ন কর্মসূচি সফল করতে হলে গ্রামীণ জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে।আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক অশিক্ষিত ও নিরক্ষর। শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে গ্রামীণ জনসাধারণ তেমন কোনো আগ্রহ প্রকাশ করতে পারছে না। এ অবস্থার উন্নতি করতে হলে গ্রামীণ জনসাধারণের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
২. পর্যাপ্ত মূলধন সরবরাহ : পল্লি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সমস্যা মূলধনের অভাব। এ মূলধনের অভাব দূর করতে হলে পর্যাপ্ত কৃষিঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষক দরিদ্র। তারা গ্রাম্য মহাজনের নিকট থেকে চড়াসুদে ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
৩. ভূমিসস্কোর : বাংলাদেশের পল্লি উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম জটিল সমস্যা হলো ত্রুটিপূর্ণ ভূমিস্বত্ব ব্যবস্থা।গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ লোক দরিদ্র ও ভূমিহীন। এজন্য অধিকাংশ জমি মুষ্টিমেয় লোকের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। এই পরিদ্র ভূমিহীন কৃষকদের অবস্থার উন্নতি করতে হলে ভূমিসংস্কারের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থার পরিবর্তন আনয়ন করতে হবে।

৪. সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব সৃষ্টি : পরিউন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গ্রামাঞ্চলে সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য গ্রামের শিক্ষিত ও বিত্তশালী লোকদের পল্লিউন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
৫. জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা : পল্লিউন্নয়ন পরিকল্পনা সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য দেশের জনগণকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হবে। দেশের জনগণকে স্বতস্ফূর্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিউন্নয়ন পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সম্ভব
৬. দক্ষ কর্মীবাহিনী সৃষ্টি : পল্লি উন্নয়নের জন্য দক্ষ ও কুশলী কর্মীবাহিনী সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের দেশের অধিকাংশ কর্মচারী পেশাগত শিক্ষায় যথেষ্ট দক্ষ না হওয়ায় পল্লিউন্নয়ন কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা দূর করতে হে গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানসমূহে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ করতে হবে।
৭. সঠিক নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান সংগ্রহ : পল্লিউন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক জরিপ চালিয়ে গ্রামীণ সম্পদ, জনশক্তি, বেকারত্বের পরিমাণ, ভূমিহীনদের সংখ্যা, কৃষিণের চাহিদা ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক পরিসংখ্যান সংগ্রহ করতে হবে।
৮. বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়সাধন : পল্লি উন্নয়নে নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন করতে হবে। বর্তমানে আমাদের দেশে পল্লি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থা নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু এ সকল সংস্থার কাজের মধ্যে কোনো সমন্বয় না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য পল্লি উন্নয়নে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টি পরিহার করে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পল্লি উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে হবে।
৯. আমলাতান্ত্রিক মনোভাব পরিহার : বিভিন্ন পরিউন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারীদের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব পরিহার করতে হবে। আমাদের দেশের অধিকাংশ পল্লি উন্নয়নে নিয়োজিত উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শহরে বসবাস করে আদেশ জারি করে থাকে।
১০. প্রামভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন : পল্লিউন্নয়ন কর্মসূচি সফল করে তুলতে হলে গ্রাম পর্যায়ে যথেষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি গ্রামের জন্য প্রয়োজন সম্পদের উপর ভিত্তি করে স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তাই স্থানীয় জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ সকল পল্লিউন্নয়ন পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সহজ হয়।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, এ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পল্লি উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর হবে এবং পল্লিউন্নয়ন প্রক্রিয়া সহজ ও ত্বরান্বিত হবে। তবে বর্তমান সরকার পল্লি উন্নয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করছেন।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!