ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাংলাদেশের সুফিসাধকদের প্রকৃতি আলোচনা কর ।

অথবা, বাংলাদেশের সুফি সাধকদের স্বরূপ আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের সুফিবাদের প্রকৃতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।
অথবা, বাংলাদেশের সুফিবাদের প্রকৃতি বা স্বরূপ আলোচনা কর।
উত্তর।৷ ভূমিকা :
পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামক যে সুশ্যামল রাষ্ট্র আপন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তার অন্তরালে রয়েছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। এ ইতিহাসের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এদেশে মুসলমানদের আগমন। ইসলামের মানবপ্রেম, সাম্য, ভ্রাতৃত্বের বাণী বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইসলামি আধ্যাত্মিক দর্শন হিসেবে পরিচিত ‘সুফিবাদ’ এর ভূমিকা অগ্রগণ্য। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে এদেশে আগত সুফিরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাদেশের সুফিদের প্রকৃতি : সুফি সম্রাট হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (র) প্রথম সুফি হিসেবে বাংলাদেশে আগমন করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। কাদেরিয়া তরিকার তাইফুরিয়া শাখার প্রবর্তক ছিলেন তিনি। এরপর হযরত বাবা আদম শহীদ (র) সাত হাজার শিষ্যসহ বাংলায় আগমন করেন। এছাড়া অন্যান্য বিখ্যাত সুফিদের মধ্যে শাহ মুহাম্মদ সুলতান রুমী, হযরত শায়েখ ফরিদউদ্দীন মাসউদগঞ্জে শকর (র), শাহ সুলতান মাহী সওয়ার, হযরত মখদুম শাহ দওলাদ শহীদ, শায়েখ জালালুদ্দীন তাব্রিজী (র), হযরত শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী (র), হযরত শাহ মখদুম রুপোস (র), হযরত শাহ আলী বোগদাদী (র), হযরত খান জাহান আলী শাহ (র), হযরত শরফুদ্দীন চিশতী (র) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের এসব সুফি সাধকদের জীবনের পথচলা পর্যবেক্ষণ করলে তাঁদের কিছু প্রকৃতি আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে। নিম্নে বাংলাদেশের সুফিদের প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ
১. ধর্ম প্রচারে নিবেদিত প্রাণ : বাংলাদেশের সুফিদের অন্যতম প্রধান প্রকৃতি হচ্ছে তাঁরা ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে মানুষকে ঠাঁই করে দেওয়ার জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। ইসলাম প্রচারের জন্য তাঁরা যে কোন প্রকারের ত্যাগ স্বীকার করতেও দ্বিধান্বিত ছিলেন না। ইসলাম প্রচারের জন্য সুফিদের জীবন বিসর্জন দেওয়ার নজিরও পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, হযরত বাবা আদম শহীদ (র) এর কথা উল্লেখ করা যায়। সুফিদের তিনি সাত হাজার শিষ্যসহ বাংলায় আগমন করে বল্লাল সেনের হাতে নিহত হন। আবার হযরত মখদুম শাহ দওলাদ শহীদ বহু অনুচরসহ এক হিন্দু রাজার সাথে যুদ্ধে নিহত হন। তাই বলা যায়, এদেশের সুফি সাধকগণ তাঁদের জীবনের ব্রত পালনে নিবেদিত প্রাণ।
২. মানবপ্রেম প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী : বাংলাদেশের সুফি সাধকগণ ইসলামের মহাসত্যের প্রতি প্রেমের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করেছেন। প্রেমময় বাণীর মাধ্যমে অনেক অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। বিশেষ করে, হিন্দু নিম্নবর্ণের নির্যাতিত মানবগণ এসব সুফিদের প্রেমস্পর্শে এসে নিজেদেরকে সমাজের অদৃশ্যতা থেকে উদ্ধার করে। সুফি সাধকদের সংস্পর্শে এসে এভাবে অগণিত নরনারী ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে উপনীত হয়।
৩. গভীর সাধনায় ব্রতী : এদেশের সুফি সাধকগণ ধর্মপ্রচারের পাশাপাশি সুফি সাধনার বিষয়গুলোকে গভীরভাবে পালন করতেন। সুফিদের মধ্যে অনেকে সাধনার দ্বারা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিলেন বলে জানা যায়। যেমন- বাগদাদ হতে আগত হযরত শাহ আলী বাগদাদী (র) অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। এছাড়াও সুফি সাধকদের গভীর আধ্যাত্মিক সাধনের অনেক নজির পাওয়া যায়।
৪. সাদাসিধে জীবনযাপন : সুফিবাদের একটি অন্যতম প্রধান দিক হচ্ছে এখানে সাদাসিধে জীবনযাপনের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সুফিগণ বাহ্যিক চাকচিক্য বা আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করতেন। তাঁদের এমন জীবনযাপন পর্যবেক্ষণ করে সাধারণ মানুষ সুফি সাধকগণকে গভীর মর্যাদায় মূল্যায়িত করেন।
৫. সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে মনোনিবেশ : রাজা বল্লাল সেন হিন্দুধর্মের অনুসারীদেরকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছিলেন। নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত হতো এবং নানাবিধ সামাজিক সুযোগ সুবিধা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হতো। এসব মানুষ ইসলামের সায্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। সুফি সাধকগণ ইসলাম ধর্মের মাধ্যমে এসব মানুষকে যথাযোগ্য মর্যাদায় সমাজে আপন করে দেন। এভাবে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে তাঁরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
৬. উদার মনোবৃত্তির অধিকারী : এদেশের সুফি সাধকগণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত উদার চরিত্রের অধিকারী। অনেকে তলোয়ারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার হয়েছে বলে মনে করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ মতবাদ সঠিক নয়। ইসলাম প্রচারে যাঁরা ব্রতী ছিলেন তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত উদার চরিত্রের অধিকারী এবং তাঁদের হৃদয় মাধুর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এদেশের মানুষ। তাঁদের উদারতা, সহনশীলতা, সাধুতার দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে সাধারণ মানুষ ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিলেন।
৭. আত্মার উন্নতির সাধনা : যেসব সুফি সাধক বাংলাদেশে আগমন করেছিলেন তাঁরা তাঁদের বাহ্যিক চাহিদার চেয়ে আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে আত্মার পবিত্রতা বা বিশুদ্ধতার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতেন। প্রেম, সত্য ও জ্ঞানের সমন্বিত ও পূর্ণ রূপের নিগূঢ় তত্ত্বের মাধ্যমে তাঁরা আত্মার পবিত্রতার জন্য সাধনায় ব্রতী ছিলেন।
৮. আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা : বাংলাদেশের সুফি সাধকদের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি তাঁদের ছিল অগাধ বিশ্বাস। সুফিবাদের উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এদেশের সুফি সাধকগণ তাঁদের জীবনকে আল্লাহতে সমর্পণ করে সাধনা করতেন। তাঁরা আল্লাহর জন্য অগাধ ভালোবাসা তাঁদের অন্তরে ধারণ করতেন।
উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের সুফি সাধকগণ তাঁদের কীর্তির জন্য এদেশের মানুষের হৃদয়ে সুদীর্ঘকাল ধরে বিশেষ আসন করে নিয়েছেন। ধর্ম প্রচারে ব্রতী এসব সাধক শুধু মুসলমানদের হৃদয়ে নয়, অমুসলিম সম্প্রদায় যেমন- অনেক হিন্দু ও বৌদ্ধদের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। এমন একজন সুফি ছিলেন হযরত শাহ আলী বোগদাদী (র)। সুফি সাধকগণ তাঁদের সুমিষ্ট ব্যবহার, সৌভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও মানবতাবাদী মনোভাব প্রদর্শন করে এদেশে তাদের সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তাতে তাঁরা যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবেন।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!