ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া সংক্ষিপে আলোচনা কর।

অথবা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া কীরূপ? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
অথবা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তুমি যা জান সংক্ষেপে লিখ।
উত্তর৷ ভূমিকা :
যেকোন রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো রাজনৈতিক, অংশগ্রহণ (Political Participation). প্রকৃত প্রস্তাবে প্রত্যেক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ হলো একটি আবশ্যিক উপাদান। আধুনিককালে গণতান্ত্রিক অগণতান্ত্রিক নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক ব্যবস্থায়, এমনকি সামরিক শাসনাধীন রাষ্ট্রেও জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া : বাংলাদেশের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো :
২. ভোটদান : ভোটদান রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সবচেয়ে ব্যাপক বিস্তৃত ধরন। গণতান্ত্রিক, সমাজতন্ত্রী কিংবা কর্তৃত্ববাদী সকল রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেই ভোটদান তথা নির্বাচনে ব্যাপক জন-অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়, যেমন :
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল জনগণের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হয়। জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে যদিও নির্বাচনে সকল প্রার্থী একটি মাত্র রাজনৈতিক দল থেকেই মনোনীত হয়। ভোটদান বা ভোটে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দাবি উত্থাপনের পরিবর্তে বরং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। অন্য কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মত ভোটদানে অংশগ্রহণের জন্য এত বেশি জ্ঞান বা প্রেষণা প্রয়োজন হয় না। রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট না হয়েও অনেকে ভোটদান করে, আবার সক্রিয় রাজনীতি সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি ভোটদানে বিরত থাকে বা নিরাসক্ত থাকে।
২. প্রচারণা (Campaingn) : প্রচারণা ও দলীয় কাজ অন্য এক ধরনের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। যেমন নির্দিষ্ট দলকে ভোট দানের জন্য অন্যকে বলা, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অংশ নিতে বলা, কোন রাজনৈতিক দলকে বা প্রার্থীকে চাঁদা দেয়া, জনগণকে ভোটার তালিকাভুক্ত করার কাজ করা, রাজনৈতিক সমিতি বা দলে যোগদান করা বা সমর্থন করা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া।
৩, গোষ্ঠী কর্মকান্ড (Community Activities) : কোন বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর জনগণের দুঃখ বা ক্ষোভ দূর করার জন্য কোন আনুষ্ঠানিক গোষ্ঠিতে কাজ করাই হলো গোষ্ঠী কর্মকান্ড। বিশেষ করে কোন সম্প্রদায়ের ব্যাপক সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য সম্পাদিত কর্মকান্ডে অংশ নেয়া এ ধরনের অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত। verma-র মতে,আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাজ করা, আঞ্চলিক গোষ্ঠী গড়ে তোলা, এরকম কোন গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া এবং সামাজিক বিষয়াদি সম্পর্কে আঞ্চলিক বা জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।

৪.সংকীর্ণ অংশগ্রহণ (Parochial Participation) : কোন ব্যক্তিকে সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিতকারী কোন বিষয়ে (যেমন: সম্পত্তি কর, রাজস্বকর বা সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি) সংশ্লিষ্ট হবার কারনে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়াই সংকীর্ণ অংশগ্রহণ। এ ধরনের অংশগ্রহণকারীগণ সাধারণত অন্য কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বা বিষয়ে কদাচিৎ সংশ্লিষ্ট থাকে। Verma & Nie তাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৪% লোক এ অংশগ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্ট।
৫. যোগাযোগ (Communication) : অন্যকে রাজনীতি সম্পর্কে অবহিত করা, নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, রাজনৈতিক নেতৃবন্দের ভাল কাজের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে বার্তা প্রেরণ, রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নেয়া এবং পত্র-পত্রিকায় রাজনৈতিক নিবন্ধন রচনা। তবে এসব কাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আগ্রহ, শিক্ষা, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রজ্ঞা প্রয়োজন।
৬. বিক্ষোভ প্রদর্শন ও প্রতিবাদ এবং হরতাল ধর্মঘট (Demonstration, Protest and Strike) : সরকারি
কোন নীতি বা সিদ্ধান্ত অথবা কোন কাজের প্রতিবাদ করা ও তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন। এছাড়া, কোন দাবি পূরণে কিংবা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন সাধনে সরকারকে বাধ্য করার জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শন, হরতাল আহবান, ধর্মঘট,অনশন, তাছাড়া রয়েছে অবস্থান ধর্মঘট, মার্চ, দাঙ্গা ইত্যাদি।
৭. সহিংসতা (Violence), দাঙ্গা (Rioting) ও বিদ্রোহ (Rebellion) : সহিংসতা উন্নত বা উন্নয়নশীল সব দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণ ঘটনা। দাঙ্গা সাধারণত অসংহত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বা যেখানে একাত্মতার সংকট প্রবল সে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বেশি লক্ষণীয়। রাজনৈতিক ও জাতিগত বিভেদ-বিরোধ বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সহিংস দাঙ্গার দিকে ঠেলে দেয়। কখনো কখনো কোন রাষ্ট্রনায়কের প্রতি কোন কারণে ক্ষোভের কারণে মানুষ সহিংস ঘটনা ঘটাতে পারে (যেমন:
Abraham Lincon, John, F Kenedy, Mahatma Gandhi এদের হাত্যাকাণ্ড)। একাত্মতার সমস্যাও জাতিগত বিভেদ
বিরোদের কারণে অথবা কখনো কখনো সরকারের নীতির কারণে কোন জনগোষ্ঠী বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে।
উপসংহার : রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির ভিন্নতার কারণে প্রত্যেক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জন-অংশগ্রহণের ধরন ও মাত্রা স্বতন্ত্র, সমরূপ নয়। কাজেই রাজনৈতিক অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ব্যবস্থার আর্থসামাজিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। এ অংশগ্রহণ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বা বিভিন্নভাবে বা বিভিন্ন কর্মকান্ডে প্রতিফলিত হতে পারে।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!