ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বাঙ্গালা ভাষা’ প্রবন্ধের মূলবক্তব্য নিজের ভাষায় লিখ।

অথবা, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধের মাধ্যমে বাংলা গদ্যের যুক্তিসঙ্গত দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।”- উক্ত কথা প্রসঙ্গে আলোচনা কর।
উত্তর :
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর সুলিখিত ‘বাঙ্গালা ভাষা’ প্রবন্ধে বাংলা গদ্য রচনার রীতিনীতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছেন। বাংলা গদ্যের আদি যুগে গদ্যের ধরন নিয়ে যে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল তার অবসানকল্পে বঙ্কিমচন্দ্র যুক্তিসঙ্গত দিকনির্দেশনা প্রদান করে প্রবন্ধটি রচনা করেন। বঙ্কিম প্রদত্ত এই অভিমতকে দেশের সুধীজন বিনা প্রতিবাদে গ্রহণ করায় বাংলা গদ্য তার স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পায়। এক সময় বাংলা গদ্য রচনার ক্ষেত্রে সাধু ভাষা ভিন্ন অন্য কোন ভাষা ব্যবহৃত হতো না। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুর তাঁর ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থে কথা ও আঞ্চলিক ভাষার অনুপ্রবেশ ঘটান। প্রায় একই সময়ে কালীপ্রসন্ন সিংহ তাঁর ‘হুতোম পেঁচার নকশা’ গ্রছে গ্রাম্য কথ্য ভাষা ব্যবহার করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই দুই সাহিত্যিককে কেন্দ্র করে দেশে পক্ষ বিপক্ষ দুটি গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়। যাঁরা এঁদেরকে সমর্থন করলেন তাঁরা নব্যপন্থি ও যাঁরা এঁদেরকে বিরোধিতা করে কোমর বেঁধে মাঠে নামলেন তাঁরা প্রাচীনপন্থি হিসেবে আখ্যায়িত হলেন। বঙ্কিমচন্দ্র এঁদের কারও দলে না ভিড়ে মধ্যপস্থা গ্রহণ করলেন। বঙ্কিমচন্দ্র বলছেন, “বিষয় অনুসারেই রচনার ভাষার উচ্চতা ও সামান্যতা নির্ধারিত হওয়া উচিত। রচনার প্রধান গুণ ও প্রথম প্রয়োজন সরলতা ও স্পষ্টতা। যে রচনা সকলেই বুঝতে পারে এবং পড়িবামাত্র যাহার অর্থ বুঝা যায়, অর্থগৌরব থাকিলে তাহাই সর্বোৎকৃষ্ট রচনা। তাহার পর ভাষার সৌন্দর্য, সরলতা এবং স্পষ্টতার সহিত সৌন্দর্য মিশাইতে হইবে।” বঙ্কিমচন্দ্র আরো বলেছেন, “প্রথমে দেখিবে, তুমি যাহা বলিতে চাও, কোন ভাষায় তাহা সর্বাপেক্ষা পরিষ্কার রূপে ব্যক্ত হয়।
যদি সরল প্রচলিত কথাবার্তার ভাষায় তাহা সর্বাপেক্ষা সুস্পষ্ট সুন্দর হয়, তবে কেন উচ্চ ভাষার আশ্রয় লইবে? যদি সে পক্ষে ঢেঁকচাদী বা হুতোমি ভাষায় সকলের অপেক্ষা কার্য সিদ্ধি হয়, তবে তাহাই ব্যবহার করিবে। যদি তদপেক্ষা বিদ্যাসাগর বা ভূদেববাবু প্রদর্শিত সংস্কৃত বহুল ভাষায় ভাবের অধিক স্পষ্টতা এবং সৌন্দর্য হয়, তবে সামান্য ভাষা ছাড়িয়া সেই ভাষার আশ্রয় লইবে। যদি
তাহাতেও কার্যসিদ্ধ না হয়, আরো উপরে উঠিবে। প্রয়োজন হইলে তাহাতেও আপত্তি নাই নিষ্প্রয়োজনেই আপত্তি।” রচনারীতির ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্র প্রাচীনপন্থিদের পশ্চাৎপদ ধারণাকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করেছেন। তিনি তাদেরকে সংস্কৃত ব্যবসায়ী ও অনুস্বারবাদী বলে আখ্যায়িত করেছেন। প্রাচীনপন্থি এই পণ্ডিতেরা মনে করতেন বাংলা ভাষায় কেবল সংস্কৃত শব্দই ব্যবহার করতে হবে। কথা, আঞ্চলিক ও বিদেশি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে বাংলা লেখা চলবে না। পক্ষান্তরে, নব্যপন্থিরা সংস্কৃত শব্দকে ঝেটিয়ে বিদায় করার পক্ষে। তাঁরা সংস্কৃত বর্জিত কথ্য ও আঞ্চলিক শব্দসমৃদ্ধ বাংলা লেখায় সকলকে উৎসাহিত করতে লাগলেন। এই মহা সংকটের সময় বঙ্কিমচন্দ্র মধ্যপন্থা অবলম্বন করে গুরুত্বপূর্ণ ও যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করলেন। তিনি উভয়পন্থার সমন্বয়পূর্বক সঠিক পদ্ধতি নির্ধারণকল্পে বললেন, “বলিবার কথাগুলো পরিস্ফুট করিয়া বলিতে হইবে যতটুকু বলিবার আছে, সবটুকু বলিবে- তজ্জন্য ইংরেজি, ফারসি, আরবি, সংস্কৃত, গ্রাম্য, বন্য, যে ভাষার শব্দ প্রয়োজন তাহা গ্রহণ করিবে, অশ্লীল ভিন্ন কাহাকেও ছাড়িবে না। তারপর সেই রচনাকে সৌন্দর্যবিশিষ্ট করিবে কেননা যাহা অসুন্দর মনুষ্যচিত্তের উপরে তাহার শক্তি অল্প। এই উদ্দেশ্যগুলো যদি সরল প্রচলিত ভাষায় সিদ্ধ হয়, সেই চেষ্টা দেখিবে- লেখক যদি লিখিতে জানেন, তবে সে চেষ্টা প্রায় সফল হইবে।” বাংলা গদ্যের প্রথম পর্যায়ে এর রীতি ও আদর্শ কী হবে তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক ও মতভেদ দেখা দিয়েছিল। সংস্কৃত অনুসারী প্রাচীনপন্থি পণ্ডিতেরা মনে করতেন সংস্কৃত ভাষা ও শব্দের উপর ভিত্তি করে বাংলা গদ্য রচিত হওয়া উচিত। এঁরা সংস্কৃত শব্দ ভিন্ন অন্য কোন শব্দকে বাংলা গদ্যে ব্যবহার করতে সম্মত ছিলেন না। অন্যদিকে, ইংরেজি শিক্ষিত পণ্ডিতেরা এ মতবাদের ঘোরবিরোধী ছিলেন। তাঁরা বাংলা ভাষা থেকে সমুদয় সংস্কৃত বিতাড়িত করে কথা, আঞ্চলিক ও বিদেশি শব্দে বাংলা লিখতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। এ বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন বঙ্কিমচন্দ্র কোন পক্ষে যোগ না দিয়ে তৃতীয় অভিমত ব্যক্ত করলেন। এই তৃতীয় অভিমত মূলত মধ্যপন্থা জাতীয়। উভয় মতের সমন্বয় করে তিনি প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিলেন। “যে রচনা সকলেই বুঝিতে পারে এবং পড়িবামাত্র যাহার অর্থ বুঝা যায়, অর্থগৌরব থাকিলে তাহাই সর্বোৎকৃষ্ট রচনা”- এমন্তব্য করে বঙ্গিমচন্দ্র যুদ্ধমান দুই গোষ্ঠীকে নিরস্ত করলেন। মূলত তাঁর এই অভিমত সকলের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হওয়ায় বাংলা গদ্য অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক থেকে মুক্তিলাভ করে। এরপর থেকে বাংলা গদ্য তার নিজস্ব রূপ লাডে সক্ষম হয় এবং পরবর্তীতে এ নিয়ে আর কোন বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। সুতরাং ‘বাঙ্গালা ভাষা’ প্রবন্ধ রচনা করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা গদ্যের সঠিক রীতিনির্দেশ করে বাংলা ভাষাকে প্রাণবন্ত করার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছেন এ কথা বলার অপেক্ষা থাকে না।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!