ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

ফররুখ আহমদ রচিত ‘ডাহুক’ একটি অনবদ্য আধুনিক কবিতা আলোচন কর।

উত্তর৷ ভূমিকা : চল্লিশের দশকে আবির্ভূত শক্তিমান কবিদের মধ্যে অন্যতম কবি ফররুখ আহমদ (১৯১৮-৭৪) ইসলাম ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবনে বিশ্বাসী। এ কবির কবিতায় প্রধানত প্রকাশ ঘটেছে ইসলামি আদর্শ ও জীবনবোধের। ডাহুক কবিতায় কবি তাঁর জীবনদর্শনের সমগ্রতাকে শিল্পে সফলভাবে উপস্থাপন করেছেন। আধুনিক কবিতার শিল্প সাফল্যের বৈশিষ্ট্যগুলো এ কবিতায় সুনিপুণভাবে বিধৃত হয়েছে।
কৰি মানস : একথা সত্য, ফররুখ আহমদ ছিলেন ইসলামি রেনেসাঁসের প্রবক্তা। কিন্তু তাঁর মতাদর্শ তাঁর কবিসত্তাকে আবদ্ধ করে নি ক্ষুদ্রতর গণ্ডিতে। গ্রাস করেনি তাঁর কাব্যলোকের সৌন্দর্য এবং শিল্প চেতনাকে। সবকিছুর উপরে তিনি ছিলেন একজন মহৎ এবং খাঁটি সৃজনশীল কবি। তাঁর কবিতার বাণী ছিল মানবতার বাণী। বিশ্বজনীন মানবতার বাণী উচ্চারিত হয়েছে তাঁর কাব্যে। একদিকে আধ্যাত্মিক পরমানন্দ অন্যদিকে হতাশা, জুগুপ্সা বেদনা এ দুই বিপরীত মেরুর বাসিন্দা যারা ফররুখ আহমদ তাঁদেরই একজন। ‘ডাহুক’ কবিতায় কবি চিত্তের এ লক্ষণ স্পষ্ট। এ অর্থে ফররুখ আহমদ একজন যথার্থ আধুনিক কবি।
আধুনিক কবিতার বৈশিষ্ট্য : কোন ধরনের কবিতাকে আমরা আধুনিক কবিতা বলব, এ নিয়ে বিতর্ক আছে। কবিতাকে নির্দিষ্ট কোন কালের সীমায় বা গণ্ডীতে আবদ্ধ করা যায় না। প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক আবু সয়ীদ আইয়ুব এর মতে, “কালের দিক থেকে মহাযুদ্ধ পরবর্তী এবং ভাবের দিক থেকে রবীন্দ্র প্রভাবমুক্ত অন্তত মুক্তি প্রয়াসী, কাব্যকেই আমরা আধুনিক কাব্য বলে গণ্য করেছি।” নগরকেন্দ্রিক যান্ত্রিক সভ্যতার অভিঘাত, বর্তমান জীবনের ক্লান্তি ও নৈরাশ্যবোধ, আত্মবিরোধ ও অনিকেত মনোভাব আধুনিক কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য।
‘ডাহুক’ কবিতার বৈশিষ্ট্য : ইন্দ্রিয়জ উপলব্ধিই একমাত্র সত্য নয়, বোধ বা অন্তর্দৃষ্টির দ্বারা দেখাই সত্যিকার দেখা। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পরিদৃশ্যমান এ বহুজগতের অন্তরালে এক অসীম রহস্যময় অলৌকিক জগৎ বিদ্যমান। ‘ডাহুক’ কবিতায় কবি আধুনিক কবিতার এ লক্ষণগুলো স্পষ্ট করে তুলেছেন।
‘ডাহুকে’র ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য রূপ : ডাহুক গ্রামবাংলার একটি সুপরিচিত পাখি। নিভৃতচারী এ পাখিটি সচরাচর দৃশ্যমান হয় না। তবে তার ডাকের সাথে অনেকেই পরিচিত। বর্ণিল এ পাখিটির মূল বৈশিষ্ট্য সজাগ প্রহরীর মতো একনাগাড়ে ডেকে যাওয়া। সমস্ত পৃথিবী যখন ঘুমে অচেতন তখন ডাহুক তার সুর অফুরান ছড়িয়ে যায়। ভাবমগ্ন মানুষের মনে ডাহুকের এ রাতজাগা সুর এনে দেয় অন্য ব্যঞ্জনা। “ডাহুক’ কবিতায় রোমান্টিক কবি ডাহুকের ডাক শুনে ভাবমগ্ন হয়ে পড়েন। কবি ডাহুকের এ ডাক অতীন্দ্রিয় জগতের এক ব্যঞ্জনা হিসেবেই শুনতে পান।
‘ডাহুকের’ অন্তর্নিহিত বক্তব্য : কবি চেতনায় ডাহুকের সুর অশরীরী এক আত্মার সুর হয়ে বাজে। মানবাত্মার পরমাত্মার সঙ্গে মিলনের যে আকুতি তা কবি ডাহুকের সুরের মাঝে খুঁজে পান। ডাহুকের স্তব্ধবিদারী ডাক কবি চেতনায় অতৃপ্তি ও অপ্রাপ্তির যাতনাকে তীব্র করে তোলে। কবি চেতনায় ডাহুকের ডাক মনে হয়েছে হৃদয় নিংড়ানো যিকির। কবি ডাহুকের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। কবি উপলব্ধি করেছেন একমাত্র ডাহুকের মতো একনিষ্ঠভাবে পরম প্রভুকে ডাকতে পারলে তবেই মানুষের মুক্তি সম্ভব।

চেতনার পথ ধরি চলিয়াছে তার স্বপ্ন পরী
মন্থর হাওয়ায়।”


কবির অনুভূতি : সমস্ত পৃথিবী গভীর নিদ্রায় মগ্ন। কবি একা রাত জেগে শুনছেন ডাহুকের ডাক। নিবিড় ঘুমের আচ্ছন্নতার মধ্যেও সজাগ প্রহরীর মতো জেগে আছে ডাহুক। ভাহুকের ডাক কবির চেতনালোকে আলোড়ন তোলে। কবি চেতনায় ডাহুকের সুর অশরীরী এক আত্মার সুর হয়ে বাজে। চিরচেনা এ পাখিকে কবির অচেনা মনে হয়। কবি প্রথমে ভাবেন ডাহুক এক অবিনাশী সুরেরই প্রতিমূর্তি। পরক্ষণেই তিনি ভাবেন সে এক সুরযন্ত্র মাত্র। অসীম প্রভুর কণ্ঠই ডাহুকের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় মাত্র।


“তবু জানি তুমি সুর নও,
তুমি শুধু সুরযন্ত্র! তুমি শুধু বও।”


শিল্পকুশলতা : ফররুখ আহমদ অবচেতন মনের রহস্যচারী এবং প্রতীকী কবিতার নিগূঢ় কারবারি। ফররুখ আহমদের আসল পরিচয় হলো তিনি একজন শিল্পী কবি। রং ও রূপের বর্ণ এবং তার সাথে গল্পের আলো, ছায়া এবং মোহের আবিষ্টতা নিয়ে যেসব কবি খেলার চাতুরী দেখান তারাই শিল্পী কবি। রূপকল্প সৃষ্টিতে তাঁর স্বতন্ত্র ও স্বকীয়ত্ব অনস্বীকার্য। ‘ডাহুক’ কবিতায় কবির রূপকল্পের সার্থক প্রকাশ লক্ষ করা যায়-


“বেতস বনের ফাঁকে চাঁদ ক্ষয়ে আসে
রাত্রির বিষাদ ভরা স্বপ্নাচ্ছন্ন সাঁতোয়া আকাশে।”


কবির মানবপ্রেম : কবি দেখেছেন, জাতি এক অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে- ক্রমাগত ভেসে চলেছে সর্বনাশের পথে। কবি দেশ, জাতি, আদর্শের মুক্তি নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাস্তব জীবনে তা রূপায়িত হয়নি। জীবন বাস্তবতায় প্রতিহত হয়ে কবি কল্পনা বার বার মুখ থুবড়ে পড়েছে। মানবতাবাদী কবি তাই বলেছেন-


“শুনিনা তোমার সুর, নিজে দেরি বিষাক্ত ছোবলে
তনুমন করি যে আহত।


ডাহুকে’র শিল্প সাফল্য : ডাহুক বাংলা কাব্য সাহিত্যের একটি স্বীকৃত শিল্পসফল কবিতা। শিল্প সাফল্যের বৈশিষ্ট্যগুলো এ কবিতায় সুনিপুণভাবে বিধৃত হয়েছে। ড. আশরাফ সিদ্দিকী এ কবিতা সম্পর্কে বলেছেন, “এটি এমনই একটি সৃষ্টি যা যতবারই পড়া যায় ততবারই নতুন মনে হয়। একেই কি বলে কাব্যের ইটারনিটি? ইটারনাল ট্রুথ বা ইঁটারনাল মিউজিক।”
কবিতার কাব্য সৌন্দর্য : নিভৃতচারী সদাচঞ্চল ডাহুককে নিয়ে রচিত ফররুখ আহমদের ‘ডাহুক’ বাংলা কাব্য সাহিত্যে ‘স্কাইলার্ক’ হিসেবে বিবেচিত। কথার সাহায্যে ছবি আঁকতে গিয়ে ফররুখ আহমদ তীক্ষ্ণ এবং বর্ণোজ্জ্বল রেখা টেনেছেন এ কবিতায়। ভাব ও ভাষার সুষ্ঠু প্রয়োগ ছন্দে ও অলংকারে এবং কাব্য রীতিতে কবিতাটি চিরন্তনতা লাভ করেছে।
উপসংহার: পরিশেষে আমরা বলতে পারি, প্রতীকী উপস্থাপনার নৈপুণ্যময় শব্দচয়ন, সাবলীল ও প্রবহমানতায় ‘ডাহুক’ অনবদ্য আধুনিক কবিতার স্বীকৃতি লাভ করেছে।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!