অথবা, পূর্ব বাংলায় NAP গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা জান লিখ ।
উত্তরা৷ ভূমিকা :
আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক সম্মেলনে গণতন্ত্রী দল ও ন্যাশনাল পার্টির সমর্থকদের সমন্বয়ে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। মওলানা ভাসানী এ দলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন পশ্চিম পাকিস্ত রানের মাহমুদুল হক ওসমানী। এ দলটি উভয় প্রদেশের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
পূর্ব পাকিস্তানে ন্যাপ গঠনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য : নিচে পূর্ব পাকিস্তানে ন্যাপ গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আলোচনা করা হলো :
১. পাকিস্তানের উভয় প্রদেশের জন্য স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
২. নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাকিস্তানকে পরিচালিত করা।
৩. পাকিস্তান থেকে সাম্প্রদায়িকতা দূরীকরণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা।
৪. সাম্রাজ্যবাদী নীতি থেকে পাকিস্তানকে মুক্তি প্রদান করা।
৫. পাকিস্তানকে একটি শোষণমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
৬. পাকিস্তানের সকল জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন করা।
৭. সকলের জন্য সাম্য প্রতিষ্ঠা করা।
৮. পকিস্তানের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ।
৯. পাকিস্তানকে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
১০. জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার রক্ষা করা।
১১. বৈষম্যমূলক নীতি পরিহার করা।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ন্যাপ একটি প্রগতিশীল সমাজ গঠনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূর্ব পাকিস্তানে তৎকালীন সময়ে বিপুল জনসমর্থন পেয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ন্যাপের জোরালো ভূমিকা লক্ষ করা যায়। পূর্ব পাকিস্তানের সার্বিক উন্নয়নে দলটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!