ডিগ্রী ৩য় বর্ষ ২০২২ ইংরেজি রকেট স্পেশাল সাজেশন ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষ এবং অনার্স প্রথম বর্ষ এর রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে যোগাযোগ করুন সাজেশন মূল্য প্রতি বিষয় ২৫০টাকা। Whatsapp +8801979786079
Earn bitcoinGet 100$ bitcoin

পাকিস্তান আমলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার প্রকৃতি উল্লেখ কর।

অথবা, পাকিস্তান আমলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন হয়েছিল?
অথবা, পাস্তিান আমলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি উল্লেখ কর।
অথবা, পাকিস্তান আমলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার প্রকৃতি কেমন ছিল?
অথবা, পাকিস্তান আমলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার প্রকৃতি সম্পর্কে যা জান লিখ।
অথবা, পাকিস্তান আমলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার প্রকৃতির বর্ণনা দাও।

ভূমিকা : ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায় শুরু করে তাদের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বজনীন ভোটাধিকার নীতি গৃহীত হয়। তবে আর্থিক অনটন ও অন্যান্য ত্রুটির জন্য তাদের কার্যপ্রণালি ও কার্যক্রম তেমন সন্তোষজনক হয়ে ওঠেনি।
পাকিস্তান আমলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার প্রকৃতি : ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর স্বায়ত্তশাসনের ইতিহাসে এক বিরাট পরিবর্তন আসে। মনোনয়ন প্রথা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয় এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোকে গণতান্ত্রিক উপায়ে পুনর্গঠন করা হয়। সর্বজনীন ভোটাধিকার নীতি কাঠামোকে আরও গণতান্ত্রিক করে তোলা
হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ এবং শাসকগোষ্ঠীর মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি বলে এ ব্যবস্থা সন্তোষজনকভাবে কার্যকর হতে পারেনি। ১৯৪৭ সালের পর পূর্ব পাকিস্তানের সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত সমস্ত জেলায় জেলা বোর্ড কার্যকর ছিল। জেলা বোর্ডকে সাধারণত যোগাযোগ, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পানি সরবরাহ, জন্ম-মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ, হাসপাতাল ও ডাক বাংলোর সংরক্ষণ ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করতে হতো। মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রবর্তনের পূর্বে পাকিস্তানের কোন অংশেই স্থানীয় প্রশাসন তেমন উন্নত ছিল না। প্রশাসন ব্যবস্থা ছিল খুবই দুর্বল। তাছাড়া তাদের দায়িত্বের পরিমাণ অনুযায়ী অর্থ না থাকায় তাদের কার্যকলাপে বিঘ্ন ঘটত। রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য কোন সরকারই এ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতি নজর দিতে পারেনি, জাতীয় পরিকল্পনায় এদের প্রতি সুবিচার করা হয় নি। ইউনিয়ন বোর্ড ও জেলা বোর্ডের অবস্থা
প্রায় একই পর্যায়ের ছিল। অনেক ক্ষেত্রে জেলা বোর্ডের ব্যর্থতার জন্য সরকারকে প্রশাসক নিযুক্ত করতে হতো। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি হলে শাসনব্যবস্থায় যে পরিবর্তন নেমে আসে তার ফলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের জীবনেও নেমে আসে এক অন্ধকারময় অধ্যায়। প্রচলিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহকে বাতিল করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান এক অধ্যাদেশ বলে (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৮) সমগ্র পাকিস্তানে নতুন ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। উক্ত শাসনব্যবস্থার নাম ছিল “মৌলিক গণতন্ত্র”। এ আইনে নিম্নলিখিত উপায়ে বিভিন্ন পরিষদ গঠন করা হয়। যথা :
১. সর্বনিম্ন স্তরটি ছিল গ্রামাঞ্চলের জন্য ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং শহরাঞ্চলের জন্য ইউনিয়ন কমিটি।
২. থানা বা তহসিল কাউন্সিল।
৩. জেলা কাউন্সিল।
৪. বিভাগীয় কাউন্সিল।
“মৌলিক গণতন্ত্র” আদেশ অনুযায়ী স্থানীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যগণ নির্বাচকমণ্ডলীতে পরিণত হয়। এ নির্বাচকমণ্ডলী প্রেসিডেন্ট, কেন্দ্রীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন করতেন।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, পাকিস্তান আমলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ সত্ত্বেও সামরিক শাসন এবং মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার প্রবর্তন এই ব্যবস্থাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মৌলিক গণতন্ত্রের কতকগুলো প্রশংসনীয় দিক থাকলেও তা অচিরে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রকৃত রাজনৈতিক অস্ত্রে রূপান্তরিত হয় এবং কায়েমি স্বার্থের ধারক ও বাহকের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন:01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!