ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

নারীবাদী চিন্তাচেতনার বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ কর

অথবা, নারীবাদের বিভিন্ন প্রত্যয় বা মতবাদ আলোচনা কর।
অথবা, নারীবাদী চিন্তাচেতনার বিভিন্ন ধারা বিস্তারিত লিখ।
অথবা, বিভিন্ন নারীবাদীদের চিন্তাচেতনার বিভিন্ন মতামত আলোচনা কর।
অথবা, নারীবাদের বিভিন্ন প্রত্যয় বা মতবাদ সম্পর্কে যা জান লিখ।
অথবা, নারীবাদেরর বিভিন্ন ধারণা মতামত সম্পর্কে তুমি কীভাবে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
নারী ও পুরুষের অখণ্ড ব্যক্তি সমবায় মানবসমাজের মূল কাঠামো। কিন্তু সমাজ ও সভ্যতার অপরিহার্য এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েও নারীরা অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার। যুগে যুগে পুরুষের এসব ধারণাকে কেন্দ্র করেই সৃষ্টি করেছে পুরুষশাসিত সমাজ। এ সমাজ স্বীকার করেনি নারীর প্রতিভা বিকশিত হতে দেয়নি নারীকে। আর তাই আজ বিশ্ব জুড়ে নারীমুক্তি, নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং অবস্থার উন্নতির জন্য নারীসমাজ প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে, তৈরি করেছে নারীবাদের বিভিন্ন মতবাদ। আর এ নারীবাদী চিন্তাচেতনার মধ্যে কোন মতবাদটি বেশি গ্রহণযোগ্য তার সুস্পষ্ট
কোনো বিশ্লেষণ পাওয়া যায়নি। আমরা বিভিন্ন মতবাদ বিশ্লেষণ করে দেখব কোন মতবাদটি বেশি গ্রহণযোগ্য।
নারীবাদের বিভিন্ন ধারা বা মতবাদ : নারীবাদ একটি বহুমাত্রিক (Multidimensional) ধারণা। তাই সময়ের সাথে পারিপার্শ্বিকতার সাপেক্ষে এ ধারণার বৈচিত্র্য লক্ষণীয়। ‘প্রায়োগিক’ এবং ‘আদর্শগত’ এ দুটি ক্ষেত্রেই গতিপ্রকৃতি ও দিকনির্দেশনায় নারীবাদ (Feminism) নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। নারীবাদী চিন্তাচেতনা বিশ্লেষণে যে মতবাদসমূহ লক্ষ্য করা যায় সেগুলো নিম্নরূপ :
১. আধুনিক নারীবাদ (Moderate Feminism) : আধুনিক নারীবাদীরা নারী পুরুষের বৈষম্যের জন্য দায়ী করে অসচেতনতাকে। Capital যখন পুরুষের হাতে চলে যায় তখন শ্রেণিবিভক্ত সমাজ হয়ে যায়। এ মতবাদ সন্তান জন্মদানকে অগ্রগতির অন্তরায় মনে করে না। এটি বহুল প্রাচীন মতবাদ। তবে ১৯২০ এর দশক থেকে এটি বহুল প্রচলিত। এ মতবাদে পুরুষকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে না। সমাজ পরিবর্তনের জন্য তারা সামাজিক বিপ্লবের কথা বলেন। তারা সকল ক্ষেত্রে নারীর বৈষম্যের কথা উল্লেখ করেন। এ বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য সরকার ক. শিক্ষা, খ. সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গ. গণআন্দোলন।
২. সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ (Socialist Feminism) : র্যাডিক্যাল এবং মার্কসীয় নারীবাদের এক ধরনের মিলিত রূপ হলো সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ। এতে সামাজিক ও ঐতিহাসিক কাঠামোকে নারী নিপীড়নের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারা মনে করেন যে, জৈবিক পার্থক্য নয়, নারী পুরুষের মধ্যে গড়ে উঠা সামাজিক সম্পর্কই নারীর মর্যাদাহীনতার জন্য দায়ী, যা আবার পিতৃতন্ত্রকে পাকাপোক্ত করেছে। তাই পিতৃতন্ত্রের বিলুপ্তি এবং নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি উভয়ের মাধ্যমে নারীমুক্তি সম্ভব।
৩. মৌলিক নারীবাদ (Radical Feminism): বিংশ শতাব্দীর ৬০ এর দশকে Radical Feministদের উৎপত্তি। এটা নারীবাদের দ্বিতীয় পর্যায়। এরা নারী নির্যাতনের মূলে জৈবিক কারণকে দায়ী করেন। প্রকৃতি নারী ও পুরুষের মাঝে বিভেদ ও বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে। নারীকে সন্তান ধারণের ক্ষমতা দিয়েছে কিন্তু এ সন্তান ধারণের বিশেষ ক্ষমতার কারণে নারী পুরুষের চেয়ে দুর্বল। Radical Feminist-দের মতে, পুরুষের পুরুষত্ব একেবারেই মানসিক ব্যাপার এবং এ পুরুষত্ব প্রকাশের মধ্যেই সমাজে নারী পুরুষ বৈষম্য। Radical Feministরা নারী পুরুষের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য কতকগুলো পদ্ধতির কথা বলেছেন, যথা :
ক. উন্নত প্রযুক্তি।
খ.কৃত্রিম উপায়ে প্রয়োজনে সন্তান জন্মদান ।
গ.সঠিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।
ঘ. পিতৃতান্ত্রিকতার নিয়ন্ত্রণ।
৪. মার্কসীয় নারীবাদ (Marxist feminism) : মার্কসবাদী মতাদর্শ হলো মার্কসীয় মতবাদের ভিত্তি, যা ব্যক্তিমালিকানা ভিত্তিক শ্রেণিবিভক্ত সমাজকেই নারী পরাধীনতার মূল কারণরূপে চিহ্নিত করে। এ নারীবাদ দেখায় যে, নারীর দাসত্ব সূচিত হয়েছে দাস প্রথারও পূর্বে। অন্যদিকে, সমাজের বস্তুগত উৎপাদনের অন্যান্য উপায়সমূহের মতো নারীও সন্তান উৎপাদনের যন্ত্রস্বরূপ পুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। এ মতবাদের প্রবক্তারা নিম্নোক্ত কারণে
নারীমুক্তি সম্ভব বলে মনে করেন :
ক.মালিকানা বিলুপ্তি,
খ.ব্যক্তিগত সম্পত্তি,
গ. সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা।
মার্কসীয় নারীবাদ মনে করে, ব্যক্তিগত মালিকানাভিত্তিক সমাজে পরিবার হলো নারীর জন্য এক কারাগার। নারীর পরাধীনতার মূল কারণ নিহিত রয়েছে নারীকে সামাজিক উৎপাদনের কাজ থেকে সরিয়ে নিয়ে তাকে ঘরকোণে কাজের মধ্যে আবদ্ধ করে সামাজিক, রাজনৈতিক সবদিক থেকে পরাধীন করে রাখা।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, বর্তমান বিশ্বের সর্বত্র আজ একটি দাবি তাহলো নারীমুক্তি। নারীমুক্তির ধারক বাহক হিসেবে নারীবাদকে উপেক্ষা করার কোনো অবকাশ নেই। সময়ের প্রেক্ষিতে নারীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে গড়ে উঠে বিভিন্ন নারীবাদী তত্ত্ব। তবে সব নারীবাদী তত্ত্বের মূলকথা নারীমুক্তি, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!