অথবা, ইবনে রুশদ ধর্ম ও দর্শনের সমন্বয় সম্পর্কে কী বলেন?
অথবা, ধর্ম ও দর্শনের সমন্বয় প্রসঙ্গে ইবনে রুশদের মতামত কি?
অথবা, ধর্ম ও দর্শনের সমন্বয় প্রসঙ্গে ইবনে রুশদের মতবাদ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
অথবা, ধর্ম ও দর্শনের সমন্বয় প্রসঙ্গে ইবনে রুশদ কিরূপ মতবাদ দেন?
উত্তরা৷ ভূমিকা : আপাতদৃষ্টিতে ধর্ম ও দর্শনের সম্পর্ক বিপরীত হলেও ইসলামে বিশ্বাস ও যুক্তি উভয়ের গুরুত্ব স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। মুসলিম দার্শনিকরা ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য যে প্রচেষ্টা চালান তা পরিপূর্ণতা পায় ইবনে রুশদের দর্শনে এসে। মুসলিম দার্শনিকদের মধ্যে পাশ্চাত্যে সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী দার্শনিক ছিলেন
ইবনে রুশদ । তিনি পাশ্চাত্যে Averroes বলে পরিচিত।
ধর্ম ও দর্শনের সমন্বয় প্রসঙ্গে ইবনে রুশদের দৃষ্টিভঙ্গি : ধর্মের সারসত্তা (Essence) হলো বিশ্বাস এবং দর্শনের সারসত্তা হলো যুক্তি। কিছু মূলনীতি ইসলাম ধর্মে রয়েছে যেগুলোকে বিশ্বাস করা একান্ত আবশ্যক। ইসলাম ধর্মে জগত জীবনের নানাবিধ সমস্যা সম্পর্কে মানবিক মননের দ্বারা চিন্তাভাবনা করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ মানুষকে তাঁর মেধা ও মননশীলতাকে ব্যবহার করতে বলেছেন। এমনকি ইসলামে ধর্মতাত্ত্বিক বিভিন্ন বিষয়, যে
সম্পর্কে শরিয়তে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই, সে সম্পর্কে মানুষকেই যুক্তিনিষ্ঠ বিধান তৈরি করার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে। এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা ইসলাম ভালো করে বুঝেন না, অথবা দর্শন বুঝেন না, এর ফলে তারা ইসলামকে দর্শনের প্রতিপক্ষ বলে মনে করেন। এ শ্রেণীর লোক কেবল মানুষকে অন্ধ বিশ্বাসের মধ্যেই নিমজ্জিত রাখতে চায়। এরা
মানুষকে মুক্ত বুদ্ধির অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। ফালাসিফা সম্প্রদায়ের মুসলিম দার্শনিকগণ এ শ্রেণীর মানুষের ভ্রান্ত বিশ্বাস নিরসনের জন্য ধর্ম ও দর্শন তথা প্রজ্ঞা ও প্রত্যাদেশের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়ে আল-কিন্দি, আল-ফারাবি, ইবনে সিনা প্রমুখ দার্শনিক যথেষ্ট আলোচনা করেছেন। তাঁরা দেখাতে চেষ্টা করেছেন যে, ইসলাম ধর্ম এবং দর্শন পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, উভয়ের সমন্বয় সম্ভব। ইবনে রুশদের দর্শনে এসে ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য মুসলিম দার্শনিকদের এ প্রচেষ্টা পরিপূর্ণতা পায়। মুসলিম দার্শনিকদের মধ্যে পাশ্চাত্যে সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী দার্শনিক ছিলেন ইবনে রুশদ। তিনি বিচারক হিসেবে জীবনের এক পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর বেশি ঝোঁক ছিল দর্শন ও চিকিৎসাবিদ্যার প্রতি। তিনি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক অবদান রেখেছেন, যা সমগ্র পৃথিবীতে এখনও গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়।
ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, ইসলাম এমন একটি ধর্ম যেখানে দর্শনের অনুশীলন অবাঞ্চিত নয়, বরং বিশেষভাবে কাম্য । ইসলাম একটি প্রত্যাদিষ্ট ধর্ম। প্রত্যাদেশের মাধ্যমে প্রাপ্ত হওয়ায় এ ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো একান্তভাবে সত্য।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে ইবনে রুশদের প্রচেষ্টা পরিপূর্ণভাবে সার্থক। তিনি জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে ধর্ম ও দর্শনের বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করেছেন। এমনকি তাঁর দর্শনের উপর ভিত্তি করে ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য মুসলিম দার্শনিকদের এ প্রচেষ্টা পরিপূর্ণতা লাভ করে। সুতরাং মুসলিম দর্শনে ইবনে রুশদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%aa%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%ae-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%a6/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!