অথবা, আল-গাজালি দৈহিক পুনরুত্থান বলতে কী বুঝান?
অথবা, আল-গাজালি দৈহিক পুনরুত্থান সম্পর্কে কী বলেন?
অথবা, দৈহিক পুনরুত্থান সম্পর্কে আল-গাজালির মতবাদ কী?
অথবা, দৈহিক পুনরুত্থান সম্পর্কে আল-গাজালির মতবাদে কী বলা হয়েছে?
উত্তর৷ ভূমিকা :
ইমাম আল-গাযালির ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা ও রক্ষক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। যুক্তির দ্বারা, মেধা ও লেখনী দ্বারা মুসলিম সমাজকে জাগ্রত করতে প্রয়াসী হন। তিনি কেবল সবাইকে উপদেশই দেন নি, বরং নিজ জীবনে তা পালন করে দেখিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন ইমামী শক্তিতে শক্তিমান একজন সুফি সাধক।
দৈহিক পুনরুত্থান সম্পর্কে আল-গাযালি : দৈহিক পুনরুত্থান সম্পর্কে আল-গাযালি প্রথমে দার্শনিকদের যুক্তিগুলো খণ্ডন করেন এবং নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেন। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১. দার্শনিকদের প্রথম যুক্তি : দৈহিক পুনরুত্থান সম্পর্কে দার্শনিকদের প্রথম যুক্তি হলো দেহের মূল উপাদান মৃত্তিকা পুনরায় একত্রিত করে পুনরায় নতুনভাবে আকার দেয়া যায়। তাই দৈহিক পুনরুত্থান সম্ভব নয়।
আল-গাযালির খণ্ডন : আল গাযালি দার্শনিকদের প্রথম যুক্তিটিকে ভ্রান্ত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, এ যুক্তি দ্বারা দৈহিক পুনরুত্থানকে অস্বীকার করা যায় না। কেননা শরীয়তে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে যে, আল্লাহ মানুষকে দৈহিকভাবে পুনরুত্থান করবে। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, যারা জগতের সৃষ্টিতে বিশ্বাস করে না তারা দেহের ধ্বংসের পর পুনরায় আল্লাহ কর্তৃক দেহ সৃষ্টি করার কথা স্বীকার করতে পারে না। তাছাড়া দৈহিক পরিবর্তন মানুষের অভিন্নতা খর্ব করেনা; কেননা শিশু হতে বার্ধক্য পর্যন্ত নানাবিধ পরিবর্তনের ফলেও মানুষের অভিন্নতা সংরক্ষিত হয়। কাজেই গাযালির মতে, মানুষের দৈহিক পুনরুত্থান অবশ্যই হবে।
২. দার্শনিকদের দ্বিতীয় যুক্তি : দার্শনিকদের দ্বিতীয় যুক্তি হলো জগৎ সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে পরিচালিত হয়ে থাকে। মানব দেহ সৃষ্টির একটি পর্যায়ক্রম রয়েছে যেমন বীর্য হতে শিশুরূপে ভূমিষ্ঠ হওয়া এবং পরিশেষে বার্ধক্যে উপনীত হয়ে মৃত্যুবরণ করা। দার্শনিকরা আরো বলেছেন, যারা দৈহিক পুনরুত্থানে বিশ্বাসী তারা মূলত লোহাকে কোন পর্যায় ছাড়াই মাথার পাগড়ি বানাতে চান। মূলত লোহাকে সুতায় পরিণত না করা পর্যন্ত তার দ্বারা পাগড়ি বানানো সম্ভব নয়। আর তাই
পরকালে কুন বলার সাথে সাথে দৈহিক পুনরুত্থান সম্ভব নয়।
আল-গাযালির খণ্ডন : আল-গাযালি দার্শনিকদের দ্বিতীয় যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, দার্শনিকরা কুন শব্দের অর্থ বুঝতে সক্ষম হন নি। তাছাড়া যিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা তিনি দৃশ্যমান নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে সৃষ্টি করতে পারবেন না; তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সৃষ্টির জন্য যদি নির্ধারিত পদ্ধতিই অত্যাবশ্যক হতো তাহলে কেন মানুষ সে নিয়মানুসারে কোন বস্তুকে সৃষ্টি করতে পারে না। তাই আল্লাহর সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় বাধ্যবাধকতা আরোপ সঙ্গত নয়। কেননা তার শক্তি যেমন অফুরন্ত.তেমনি কর্ম পদ্ধতিও বিচিত্র। তাই দৈহিক পুনরুত্থান অসম্ভব বলার অর্থ হবে আল্লাহর ক্ষমতাকে সীমিত করণের প্রচেষ্টা।কাজেই আল-গাযালি সুস্পষ্টভাবে বলেন যে, মানুষের দৈহিক পুনরুত্থান সম্ভব।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, আল-গাযালি দার্শনিকদের যুক্তিগুলো খণ্ডন করে দৈহিক পুনরুত্থান সম্পর্কে যেসব অভিমত ব্যক্ত করেন সেগুলোর পিছনে যথেষ্ট ধর্মীয় প্রমাণ রয়েছে। তিনি কুরআন, হাদিস, শরিয়ত এবং জাগতিক বিভিন্ন প্রমাণ দ্বারা মানুষের দৈহিক পুনরুত্থান সম্পর্কে যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাই দৈহিক পুনরুত্থান সম্পর্কে গাযালির ব্যাখ্যা মুসলিম দর্শনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%9a%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!