ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন স্তরগুলো আলোচনা কর ।

অথবা, তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণেরবিভিন্ন ধাপগুলো আলোচনা কর।
অথবা, তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণেরবিভিন্ন পর্যায়সমূহ আলোচনা কর।
অথবা, তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপগুলো কী কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহের কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর তথ্য প্রক্রিয়জাতকরণের কাজটি শুরু করতে হয় । এরপর প্রাপ্ত তথ্যসমূহের বিশ্লেষণ করতে হয়। অর্থাৎ, তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ হলো গবেষণায় তথ্য সংগ্রহের পরবর্তী ধাপ এবং তথ্য বিশ্লেষণ এর পূর্ববর্তী একটি অত্যাবশ্যকীয় ধাপ। তথ্য বিশ্লেষণের কাজটিকে অত্যন্ত সহজতর করার জন্য তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজটি এমনভাবে সম্পাদন করতে হয়, যাতে গবেষক কাঙ্ক্ষিত তথ্যটি অতিসহজে পেতে পারেন । তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের বেশ কয়েকটি স্তর বা ক্রমধারা রয়েছে ।
তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন স্তর : মূলত তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রক্রিয়টিতে কয়েকটি ধাপ বা স্তর রয়েছে । যেমন- ১. তথ্যের সংকেতায়ন ও সম্পাদনা, ২. তথ্যের শ্রেণিবদ্ধকরণ, ৩. তথ্যের সারণিবদ্ধকরণ, ৪. পংক্তিতে সাজানো, ৫. পৌনপুন্য বণ্টন । নিম্নে এগুলো যথাপরিসরে আলোচনা করা হলো :
১. তথ্যের সংকেতায়ন ও সম্পাদনা : সারণি প্রস্তুত করার সময় গবেষককে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কিভাবে সংগৃহীত তথ্যগুলোকে সারণিকরণ ও বিশ্লেষণ করা হবে। সারণি কি হাতে তৈরি করা হবে, না যন্ত্রের সাহায্যে? এ সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়াও বর্ণনাত্মক তথ্যকে পরিমাণগতভাবে বিশ্লেষণ করতে হলে অবশ্যই সংখ্যাসূচক সংকেত পরিবর্তিত করতে হবে । হস্ত নির্মিত সারণির জন্য অনেক সময় সংকেতায়িত তথ্যকে হাতে ব্যবহারযোগ্য, বিশেষভাবে নকশাকৃত কার্ডে লিপিবদ্ধ বা স্থানান্তর করতে হবে। কাউন্টার সর্টার অথবা কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য আদর্শায়িত কম্পিউটার কার্ডে লিপিবদ্ধ বা স্থানান্তর করতে হবে। কাউন্টার অথবা কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য আদর্শায়িত
কম্পিউটার কার্ডে তথ্যকে স্থানান্তরিত করতে হবে। কম্পিউটার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা থাকলে, সম্প্রসারিত কম্পিউটার প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য তথ্যকে পরিশেষে চুম্বকীয় ফিতা বা ডিস্কে স্থানান্তরিত করতে হয়। কারণ তথ্যকে চুম্বকীয় “ফিতা অথবা ডিস্ক থেকে পড়ার জন্য কম্পিউটারে সময় ও খরচ কম লাগে। তাছাড়া তথ্যের যে কোনো গাণিতিক বিশ্লেষণ কম্পিউটার অতি অল্প সময়ে করতে পারে । কম্পিউটারে ব্যবহারের উপযোগী করতে হলে তথ্যকে সংকেতে প্রকাশ করতে হবে। তথ্যকে সংকেতায়িত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা তৈরি করতে হবে। সকল চলের জন্য সংকেতায়ন নির্দেশিকা প্রতিটি সম্ভাব্য উত্তরকে একটি একক সংখ্যাসূচক সংকেতে রূপান্তরিত করে। একটি বিশেষ চলের জন্য শ্রেণি সংখ্যা যদি ১০ এর কম হয়, তবে সংখ্যাসূচক সংকেতায়নে একটি মাত্র অংক ব্যবহার করতে হবে। যদি সর্বমোট শ্রেণির সংখ্যা ১০ থেকে ৯৯ ভিতরে হয়,
তবে দুই অংকবিশিষ্ট সংখ্যা ব্যবহার করতে হবে। কিছু চলের জন্য তিন, চার বা আরো অধিক অংক বিশিষ্ট সংখ্যা ব্যবহার করা হয়ে থাকে । ভুল এড়ানোর জন্য সংকেতায়িত তথ্যকে সাথে সাথেই পরীক্ষা করে দেখা দরকার । সংকেতায়নের কিছু অংশ সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ভিন্ন লোক দ্বারা পুনরাবৃত্তি করে ফলাফলকে তুলনা করা উচিত। যদি দুই ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয় তবে সেগুলোকে আবার পরীক্ষা করার দরকার এবং সংকেতায়নের তত্ত্বাবধায়ক দ্বারা সেগুলোকে সংশোধন করা দরকার । সংকেতায়ন নির্দেশিকা অথবা সংকেত তৈরিকারকদের অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের কারণে প্রায়ই উভয় ফলাফলে পার্থক্য লক্ষ করা যায় । সমস্ত তথ্যকে সংকেতায়িত করার পর এগুলোকে সম্পাদনা করতে হয়।
২. তথ্যের শ্রেণিবদ্ধকরণ : তথ্য প্রক্রিয়াকরণ পদক্ষেপ হিসেবে তথ্য সংগ্রহের পরপরই যে কাজটি করতে হয় তা হচ্ছে তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস করা। অর্থাৎ, তথ্যসমূহের বৈশিষ্ট্যর উপর ভিত্তি করে এদেরকে আলাদা শ্রেণিতে বিভিক্ত করা। যেমন- পোস্ট অফিসসমূহে পত্রগুলো গন্তব্যস্থল অনুযায়ী আলাদাভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। অর্থাৎ, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ইত্যাদি গন্তব্যস্থল অনুযায়ী আলাদা আলাদা করা হয়। গবেষককেও এভাবে সংগৃহীত তথ্যসমূহ শ্রেণিবদ্ধ করতে হয়।
শ্রেণিবদ্ধকরণের প্রকারভেদ : সংগৃহীত তথ্যসমূহকে চারটি ভিত্তির উপর শ্রেণিবদ্ধ করা হয় । যথা :
ক. ভৌগোলিক তথা আঞ্চলভিত্তিক, যেমন- শহর, জেলা, উপজেলা ইত্যাদি ।
খ. সময়ানুবর্তী যেমন- কালেভিত্তিতে ।
গ. গুণগত যেমন— কতকগুলো গুণ বা বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে।
ঘ. সংখ্যাতাত্ত্বিক যেমন- পরিমাণভিত্তিক ।
৩. তথ্যের সারণিবদ্ধকরণ : সংগৃহীত হাজারও তথ্যের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনের একটি পদ্ধতি হচ্ছে সারণিকরণ। অর্থাৎ, একটি সারণি হচ্ছে পরিসংখ্যানগত তত্ত্বকে কলাম এবং রেখা এর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে আনুভূমিকভাবে, এবং কলাম হচ্ছে উল্লম্বভাবে অঙ্কিত সারণির উদ্দেশ্য হচ্ছে সংগৃহীত তথ্যসমূহকে অতি সহজবোধ্য উপস্থাপন যা থেকে পাঠক কাঙ্ক্ষিত তথ্যটি সহজেই চিহ্নিত করতে পারেন ।
৪. সারণির অংশসমূহ : বিভিন্ন সারণির অংশ সংখ্যা বিভিন্ন হতে পারে । তবে প্রায় সকল সারণিসমূহে নিম্নবর্ণিত অংশসমূহ লক্ষ করা যায় । যথা : ক. সারণির সংখ্যা বা নম্বর, খ. সারণির শিরোনাম, গ. ক্যাপশন বা কলামের শিরোনাম,
ঘ. Stab বা Row শিরোনাম, ঙ. মূল অংশ, চ. Headnote বা মন্ডটীকা, ছ. পাদটীকা বা (Foot note), জ. তথ্যের উৎস ইত্যাদি ।
৫. পংক্তিতে সাজানো : তথ্য শ্রেণিবদ্ধকরণ ও সাজানোর পরও বিশ্লেষণ এবং প্রকাশনার জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী হয় না । সংগৃহীত তথ্য যদি তুলনামূলকভাবে সংখ্যায় অল্প হয় তবে ঐগুলোর সারসংক্ষেপ না করে ন্যায়সঙ্গত কোনো একটি ক্রমে সাজিয়ে নিলেই চলে। এজন্য উপাত্তকে মানের ঊর্ধ্বক্রম অথবা নিম্নক্রম অনুসারে সাজানো যেতে পারে। তথ্যগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজালে তাদের পরিমাপ বা মাত্রার ক্রমে একটি পংক্তির সৃষ্টি হয় । ধরা যাক, একটি মনোবিজ্ঞানিক অভীক্ষায় ৩০ জন কলেজ ছাত্রের প্রাপ্ত সাফল্যাঙ্ক নিম্নরূপ :

উপর্যুক্ত পদ্ধতিতে আত্তীকরণ ছাড়াই তথ্যকে সহজবোধ্য করার চেষ্টা করা হয়। অর্থাৎ, তথ্যসমূহকে একটি নির্দিষ্ট পন্থা অনুযায়ী সাজানো হয় মাত্র । তথ্যের সংখ্যা কম হলে এ ব্যবস্থা মোটামুটি সন্তোষজনক হয় ।
৬. পৌনঃপুন্য বণ্টন : পংক্তিতে সাজানো ছকে প্রদর্শিত উপাত্ত থেকে একটি সংখ্যা আরেকটি সংখ্যা থেকে বড় না ছোট, এর বেশি কিছু জানা যাচ্ছে না। অথচ ঐ ধরনের উপাত্ত রাশি থেকে আমরা অনেক সময় আরও কিছু জানতে চাই । যেমন-
ক. ছাত্রদের গড় সাফল্যাঙ্ক কি রকম,
খ. ঐ দলের অন্তর্ভুক্ত ছাত্রদের সাফল্যাঙ্কের পার্থক্যের মাত্রা কেমন,
গ. সাফল্যাঙ্কের বণ্টনের আকৃতি কেমন ইত্যাদি। অনুরূপ জিজ্ঞাসার উত্তর পাওয়ার লক্ষ্যে আমাদের প্রথম করণীয় হচ্ছে উপাত্তকে পৌনঃপুন্যের বণ্টনে সাজানো । সাধারণভাবে পৌনঃপুন্যের বন্টন বলতে ইচ্ছামত পরিসীমা টেনে তথ্যসমূহকে শ্রেণিবিভাগ করে প্রত্যেক শ্রেণির পৌনোঃপন্যের বণ্টনে সাজানোর জন্য ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। যে কোনো যুক্তিসম্মত উপায়ে সাজালেই চলে ।
উদাহরণ : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, একটি মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষায় ৩০ জন কলেজ ছাত্রে প্রাপ্ত সাফল্যাঙ্কের ভিত্তিতে পৌনঃপুন্যের বণ্টন :

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, গবেষণায় সংগৃহীত তথ্যকে গবেষণার কাজে যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা হয়ে থাকে । আর তথ্য প্রক্রিয়াকরণের বেশ কিছু ধাপ বা স্তর রয়েছে। এগুলো সব স্তর সব গবেষণার সমস্যা বা তথ্যের প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজন হয় না। মূলত গবেষকের গুণাবলির উপরই নির্ভর করে গবেষণার মান এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ধরন।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!