অথবা, ইবনে রুশদ সৃষ্টিকর্তা ও কারণ সম্পর্কে কী বলেছেন?
অথবা, জগতের সৃষ্টিকর্তা ও কারণ সম্পর্কিত ইবনে রুশদের মতবাদ সংক্ষেপে তুলে ধর।
অথবা, জগতের সৃষ্টিকর্তা ও কারণ সম্পর্কে ইবনে রুশদের মতবাদ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা : ইবনে রুশদ মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক হিসেবে পরিগণিত। ইউরোপীয়রা তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম দার্শনিক ও এরিস্টটলের প্রখ্যাত ভাষ্যকার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, একটি সত্যিকারের ধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্ম চর্চার বিরোধী নয়; বরং দর্শনের অধ্যয়নকেই উৎসাহিত করে।
জগতের সৃষ্টিকর্তা ও কারণ সম্পর্কিত যে মতাদর্শ ইবনে রুশদ প্রচার করেছেন তাকে নিম্নোক্তভাবে উপস্থাপন করা যায় :
১. ইবনে রুশদের মতে, জগতের কর্তা সম্পর্কে দার্শনিকরা যে মত দিয়েছেন তা ব্যাখ্যা করার পূর্বে কর্তা সম্পর্কে একটু আলোচনা করা দরকার। ইবনে রুশদের মতে, দুই ধরনের কর্তার কথা ধারণা করা যেতে পারে।
প্রথমত, এক ধরনের কর্তা থাকতে পারে যে কর্তা কোনকিছু সৃষ্টি করেন এবং কেবল ঐ সৃষ্টির সময়েই তাঁর সাথে যুক্ত থাকেন বা ঐ সৃষ্টির সাথে কেবল সৃষ্টিকালীন সময়েই সম্পর্ক রাখেন। ইবনে রুশদ উদাহরণ হিসেবে কোন পেশাদার গৃহনির্মাতার কথা বলেন যিনি কেবল কোন নির্দিষ্ট গৃহনির্মাণাধীন সময়ে ঐ গৃহের সাথে যুক্ত থাকেন বা তবে তিনি নির্মাণ সমাপ্তি হয়ে গেলে তার ঐ নির্দিষ্ট গৃহে অবস্থান করেন না
দ্বিতীয়ত, এমন এক কর্তার কথা ভাবা যায়, যে কর্তা শুধু সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হন না, বরং সৃষ্টিকে তাঁর উপর নির্ভরশীল করে রাখেন। তাঁর অবস্থিতি সৃষ্টির সাথে আবশ্যিক হয়ে পড়ে।
২. ইবনে রুশদের মতে, দার্শনিকরা, আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে আদিকারণ বিষয়ক যে অভিমত তুলে ধরেছেন তা যথার্থ নয়। তাঁর মতে, “This argument carries a certain conviction but still it is not true.’
রুশদের ধারণা, কারণ বলতে কোন একক কারণকে বুঝায় না। কারণ শব্দের বিভিন্ন অর্থ আছে। তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, কারণ শব্দটির অন্তত চারটি অর্থ থাকতে পারে। চার প্রকার কারণের কথা এরিস্টটল বর্ণনা করেছিলেন। তা হলো :
i. নিমিত্ত কারণ,
ii. আকারগত কারণ,
iii. উপাদানগত কারণ এবং
iv. পরিণতি কারণ বা আদি কারণ।
তবে এ চার প্রকার কারণের পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দার্শনিকগণ দেন নি। তাঁরা জগতের প্রথম কারণ বলতে কি বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।
৩. আল-গাজালি অভিযোগ করেছেন দার্শনিকরা জগতের অনাদিত্বের ধারণা দ্বারা চালিত হয়েছেন। গাজালির মতে, যেহেতু জগতের অনাদিত্ব স্বীকার করে না তাই তাঁদের এ মতও গ্রহণযোগ্য নয়। ইবনে রুশদের
মতে, জগতের প্রতিটি বস্তু জড় ও আকার (Matter and form) এর সমন্বয়ে গঠিত। সকল দার্শনিকই এ মতবাদ সমানভাবে গ্রহণ করেন না।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, জগতের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণ প্রসঙ্গে ইবনে রুশদ এর মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আস্তিক শ্রেণীর দার্শনিক জড়বাদী ও নাস্তিক শ্রেণীর দার্শনিকদের মতের সমন্বয় করে এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করতে সক্ষম হন। তাছাড়া তিনি আস্তিক শ্রেণীর দার্শনিকদের যুক্তি সমর্থন করলেও জড়বাদী ও নাস্তি
কদের যুক্তিও পর্যালোচনা করেন। সুতরাং মুসলিম দর্শনে ইবনে রুশদের অবদান অনস্বীকার্য।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%aa%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%ae-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%a6/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!