ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

গবেষণা নকশার ধাপগুলো আলোচনা কর ।

অথবা, গবেষণা নকশার পর্যায়গুলো আলোচনা কর।
অথবা, গবেষণা নকশার স্তরসমূহ বিশ্লেষণ কর।
অথবা, গবেষণা নকশার পর্যায়সমূহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
সমাজ গবেষণার সমস্যা চিহ্নিতকরণ, কল্পনা গঠন ও চলক স্থিরকরণের পর গবেষক প্রকৃত অনুসন্ধানের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা হলো গবেষণার উপযুক্ত নকশা প্রণয়ন। বিজ্ঞানসম্মতভাবে কোনো সমস্যা।সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাতে হলে সেজন্য পরিকল্পনা করতে হয়। কারণ প্রত্যেক গবেষকই অনুসন্ধান কর্ম পরিচালনা করতে গিয়ে কখন, কিভাবে, কোথায়, কার কাছ থেকে, কত সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মধ্যদিয়ে কল্পনা যাচাই বা গবেষণা করবেন সে সম্পর্কে বাস্তবসম্মত চিন্তাভাবনা করে থাকেন ।
গবেষণা নকশার ধাপসমূহ : গবেষণা নকশায় নানাবিধ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ গবেষণা কর্মটির রূপরেখা সম্পর্কে গবেষণা নকশায় অনেকগুলো ধাপ থাকে । নিম্নে এগুলো যথাপরিসরে বর্ণনা করা হলো :
১. গবেষণার সমস্যা সম্পর্কে ভূমিকা প্রদান : প্রত্যেক গবেষণা নকশায় প্রথমে গবেষণার সমস্যা সম্পর্কে বিবরণ দিতে হয়। আগাছ, গবেষক যে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করতে চায় তা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, তার সমাধান কেন বাঞ্ছনীয় ইত্যাদি বিষয় এ অংশে আলোচনা থাকে। সাধারণত গবেষকরা এ অংশের বিভিন্ন নাম যেমন, ভূমিকা, সমস্যা, গবেষণার কাঠামো ইত্যাদি শিরোনাম ব্যবহার করে থাকেন। তবে যে শিরোনামই ব্যবহার করুন না কেন, মূল আলোচনা সমস্যা নির্বাচনের কারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে ।
২. প্রত্যয়সমূহে কার্যকরী সংজ্ঞা প্রদান : গবেষণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রত্যয়ের কার্যকরী সংজ্ঞা প্রদান একান্ত।অপরিহার্য। যেসব প্রত্যয় গবেষণায় ব্যবহার করা হয়, সে সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যক্তির ধারণা থাকতে পারে। যেমন-ভূমিহীন, দুস্থ শ্রেণি, অপরাধ ইত্যাদি। গবেষণায় এ ধরনের যেসব প্রত্যয় ব্যবহার করা হবে তার কার্যকরী সংজ্ঞা প্রদান অপরিহার্য।
৩. গবেষণার উদ্দেশ্য : গবেষণার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে গবেষণা নকশায় বিবরণ দেয়া একান্ত প্রয়োজন । গবেষণার প্রধান বা মুখ্য উদ্দেশ্য কি কি তা উল্লেখ করা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নে কি কি বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে তাও গবেষণা নকাশায় বিবৃত করতে হয়।
৪. প্রকল্প বা অনুমান গঠন : অনেক গবেষণার অনুমান গঠন করে তা পরীক্ষা করা হয়। যদি গবেষণাতে অনুমান পরীক্ষা করার কোন উদ্দেশ্য থাকে, তবে তা যেন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে অনুমানের উৎস বিভিন্ন হতে পারে । প্রথমত, সেটি পূর্ববর্তী গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে হতে পারে । দ্বিতীয়ত, কোন মৌলিক তত্ত্ব বা প্যারাডাইস থেকে হতে পারে । তৃতীয়ত, সাধারণের ধারণা থেকে তা জন্ম নিতে পারে। চতুর্থত, গবেষকের সৃজনশীল কল্পনা বা অভিজ্ঞতা এ ধরনের অনুমানের সৃষ্টি করতে পারে। তাবে অনুমানের উৎস যাই হোক না কেন, গবেষককে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে এবং পরিচালিত গবেষণায় তার থেকে উত্থিত কি কি প্রশ্নের জবাব দেবে তা স্পষ্ট করে বর্ণনা
করতে হবে।
৫. গবেষণার যৌক্তিকতা : বস্তুত গবেষণায় যৌক্তিকতা তুলে ধরা প্রতিটি গবেষকের অন্যতম প্রধান কাজ । তাই গবেষণা নকশায় এ বিষয়টি প্রতিটি গবেষকেই অবশ্যই বর্ণনা কর উচিত। এতে প্রধানত গবেষণাটি কি কোন তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক কিংবা বাস্তব সমস্যার সমাধান করবে কি না তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা আবশ্যক । এ ধরনের যৌক্তিকতা
বর্ণনা আরো অপরিহার্য এ কারণে যে, অনেক সময় সকল পাঠকের পক্ষে একটি গবেষণার তাৎক্ষণিক কিংবা সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য অনুধাবন করা কষ্টকর।
৬. তথ্যের উৎস : গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হবে তা গবেষণা নকশায় বর্ণিত হওয়া দরকার। যেমন-গবেষণার প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ কি সরেজমিনে জরিপ পরিচালনা করে সংগ্রহ করা হবে কি না অন্যদের সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করা হবে, না কি উভয় উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে তা বর্ণনা করা দরকার ।
৭. তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি : গবেষণার জন্য তথ্য কিভাবে সংগ্রহ করা হবে যেমন-প্রশ্নমালা, সাক্ষাৎকারমালা, কেস স্টাডি, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ইত্যাদি কি পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে। সাথে সাথে যে তাহলেও কোন পদ্ধতিতে কি কি তথ্য সংগ্রহ করা হবে তা বর্ণিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। অনুসৃত হবে তার সপক্ষেও যুক্তি প্রদর্শন করতে হবে। আর যদি একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করার প্রয়োজন থাকে,
৮. তথ্য সমগ্ৰক : যে তথ্য সমগ্রক থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে সে সম্পর্কে পরিষ্কার বর্ণনা থাকতে হবে । সম্পূর্ণ সমগ্রক থেকে তথ্য নেয়া হবে, নাকি নমুনা বাছাই করে তা থেকে তথ্য নেয়া হবে তা সুষ্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে । যদি নমুনা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তাহলে নমুনায়ন পদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে।
৯. তথ্য প্রক্রিয়া ও বিশ্লেষণ : তথ্য সংগ্রহ সমাপ্তির পর কিভাবে তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশ্লেষণ করা হবে তার বর্ণনা থাকা বাঞ্ছনীয় । অর্থাৎ, তথ্য যদি প্রশ্নমালা বা সাক্ষাৎকারমালা ব্যবহার করে সংগ্রহ করা হয়, তাহলে কয়েকটি কাজ যথা : সম্পাদনা, সারণিবদ্ধকরণ, পরিকল্পনা তৈরি তথ্য সারণিকরণ এবং সর্বোপরি বিশ্লেষণ কিভাবে করা হবে তার বর্ণনা থাকা উচিত । তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কি কি পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, তাও বর্ণিত হওয়া উচিত ।
১০. সময়সূচি : কোন একটি গবেষণাকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পাদনের জন্য গবেষণার একটি সময়সূচি তৈরি করা হয়। এতে গবেষণাটি সম্পাদনের জন্য পর্যায়ক্রমানুসারে প্রধান প্রধান কাজের তালিকা তৈরি করা হয় এবং সাথে সাথে তা কত সময়ের মধ্যে সম্পাদন করা হবে তা বর্ণনা করা হয়। যেমন- গবেষণা নকশা প্রণয়ন, তথ্যসংগ্রহ, তথ্য সারণিবদ্ধকরণ, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন তৈরিকরণ ইত্যাদি প্রতিটি কাজ কত সময়ের মধ্যে সম্পাদন করা হবে তা নির্দিষ্ট করা। সময়সূচি থাকলে গবেষণাটি নির্দিষ্ট সময়ে সম্পাদনের জন্য গবেষকের আগ্রহ থাকে ।
১১. বাজেট : গবেষণা নকশা তৈরিতে বাজেটও অন্তর্ভুক্ত থাকে । কেননা, একটি গবেষণা পরিচালনা করতে মোট কত টাকা প্রয়োজন হবে এবং প্রত্যেকটি খাতে কত টাকা ব্যয় হবে তা পূর্ব নির্ধারিত থাকলে অপচয়ের সম্ভাবনাও কম থাকে এবং অর্থাভাবে গবেষণা বন্ধ হওয়ার সম্ভবনাও থাকে না। এছাড়া বৃহৎ গবেষণা পরিচালনা করতে স্থূল গবেষক ছাড়া আর কতজন দক্ষ সহযোগীর প্রয়োজন হবে এবং তারা কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ হবে তা পূর্বেই চিহ্নিত থাকা বাঞ্ছনীয় অর্থাৎ, তাদের মধ্যে কতজন তথ্য সংগ্রহকারী, কতজন তথ্য বিন্যাসকারী, তত্ত্বাবধায়ক, পরিসংখ্যানবিদ, বিষয়ে বিশেষজ্ঞ থাকবেন ।
১২. গ্রন্থপঞ্জি তা তথ্য নির্দেশিকা : গবেষণা নকশায় অবশ্যই গবেষণায় ব্যবহৃত হবে এমন পুস্তক, প্রবন্ধ, গবেষণা রিপোর্ট ইত্যাদির একটি তালিকা প্রদান করতে হবে। এ তালিকাকে গ্রন্থপঞ্জি বলে । তবে অনেক সময় দেখা যায় যে, কেউ রেফারেন্স, কেউ গ্রন্থপঞ্জি, কেউবা আলোচিত গ্রন্থপঞ্জি অথবা নির্বাচিত গ্রন্থপঞ্জি ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন ।
১৩. গবেষকের স্বাক্ষর ও তারিখ : গবেষণা নকশার শেষ দিনে গবেষকের স্বাক্ষর ও তারিখ প্রদান করে গবেষণা নকশায় উক্ত সব বর্ণনাকে কার্যকরী বলে গবেষক স্বীকৃতি প্রদান করে এবং এতে অধিতর গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বস্ত করেন।
উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, কোনো গবেষণা নকশার সত্যিকারের কাঠামো বা ধাপসমূহ গড়ে উঠে গবেষণার বিষয়বস্তু, সময়, ব্যয় এবং গবেষকের গুণবালির উপর নির্ভর করে। তবে প্রায় সব সামাজিক গবেষণাকে নকশাতেই উল্লিখিত ধাপসমূহ থাকতে দেখা যায় ।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!