অথবা, উপনিষদ অনুসারে মায়ার স্বরূপ সংক্ষেপে আলোচনা কর।
অথবা, মায়া সম্পর্কে উপনিষদীয় ব্যাখ্যা কী?
অথবা, উপনিষদীয় মায়াবাদ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
ভারতীয় দর্শনে মায়া কথাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ভারতীয় দর্শনে মায়া শব্দটির একক কোন অর্থ নিরূপণ করা সম্ভব হয় নি। মায়া শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। বেদে, উপনিষদে, ভগবদগীতা, ব্রহ্মসূত্রে, গৌড়বাদের দর্শনে, শঙ্করের দর্শনে মায়া কথাটির ধারণা পাওয়া যায়।
নিম্নে মায়া সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
উপনিষদে মায়া : একই নামে অথবা বিভিন্ন নামে মায়াকে বিভিন্ন উপনিষদে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ হিসেবে বিভিন্ন উপনিষদে মায়ার অর্থ বিভিন্নরূপ। এমনকি একই উপনিষদে বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে মায়ার অর্থ বিভিন্নভাবে পরিলক্ষিত হয়।
প্রপঞ্চরূপে মায়া : শ্বেতাশ্বত উপনিষদে মায়াকে প্রপঞ্চ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। শঙ্করের মতে, জগৎ হচ্ছে হাসিকান্না, সুখদুঃখের সমষ্টি। অধিকাংশ পণ্ডিত ব্যক্তি শঙ্করের এ ব্যাখ্যাকে গ্রহণ করেন এবং মায়াকে তারা জাগতিক বিভ্রান্তি বলে উল্লেখ করেন।
ভ্রমরূপে মায়া : মৈত্রী উপনিষদে বলা হয়েছে মানুষের দেহ হচ্ছে পঞ্চভূতের সমষ্টি। স্থূল ও ক্ষয়শীল দেহ। এ দেহটাকে পরিচালিত করে মন বা আত্মা। আবার এ দেহ মায়ার কারণে জগতের বিভিন্ন জিনিসের মোহে পড়ে মোহান্ধ হয়। রাতের মতো আবেগে অন্ধ হয়ে যায়। মায়ার কারণে দেহ বিভিন্নরূপ ধারণ করে। একজন অভিনেতা যেমন বিভিন্ন পোশাক বদলায় ঠিক দেহটা হচ্ছে সেই রকম, যে বিভিন্ন সময়ে এক একটি জিনিসের প্রতি আসক্ত হয় এবং পূর্বেরটা ত্যাগ করে। মায়ার কারণে আবদ্ধ হয়ে দেহ মনকে ভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। এখানে মায়াকে বলা হয় Illusion বা অধ্যাস বা ভ্রান্তি।
রহস্যরূপে মায়া : ‘সর্বোপরি’ শাস্ত্র একটি নাম করা গদ্য গ্রন্থ। এখানে মায়াকে একটি রহস্যময় শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এ শক্তির দ্বারাই এ বিশাল জগতের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকৃতি হিসেবে মায়া : শ্বেতাশ্বত উপনিষদে মায়াকে প্রকৃতি হিসেবে বলা হয়েছে। উপনিষদ গ্রন্থে মায়াকে জগৎ সৃষ্টির প্রধান কারণ বলা হয়েছে। বিভিন্ন উপনিষদে মায়াকে প্রকৃতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, মায়া ব্রহ্মের অতি মানবীয় ক্ষমতার বিভিন্ন আকার হিসেবে দেখানো হয়েছে। কোন অধ্যাস বা অবাস্তবতা হিসেবে নয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ভারতীয় দর্শনে মায়া কথাটির একক কোন অর্থ নেই। ভারতীয় দর্শনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে এ মায়া কথাটির ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%b6-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!