ডিগ্রি প্রথম এবং অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০২৩ এর সকল বিষয়ের রকেট স্পেশাল ফাইনাল সাজেশন প্রস্তুত রয়েছে মূল্য মাত্র ২৫০টাকা প্রতি বিষয় এবং ৭ বিষয়ের নিলে ১৫০০টাকা। সাজেশন পেতে দ্রুত যোগাযোগ ০১৯৭৯৭৮৬০৭৯

 ডিগ্রী সকল বই

ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব সংক্ষেপে আলোচনা কর।

অথবা, ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সংক্ষেপে আলোচনা কর।
অথবা, বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব উল্লেখ কর।
উত্তর৷ ভূমিকা :
বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা গুলোর মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সবাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো ইউনিয়ন পরিষদ । গ্রামীণ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সু-শাসন প্রতিষ্ঠা স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠা, শাসনব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটানো, স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দ্বারা সু-শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কাজেই ইউনিয়ন পরিষদ নাগরিকদের কল্যাণ এবং স্থানীয় উন্নয়নে যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে,তার জন্য প্রথম এবং প্রধানত প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ।
ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব : নিচে ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১. নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি পায় : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটদান ও ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি পায়। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সাধারণ জনগণের কার কি অধিকার ও কর্তব্য সে সম্পর্কে সকলেই সজাগ হয়ে উঠে। সাধারণ জনগণ ভাবতে শিক্ষে ইউনিয়ন পরিষদ তাদের বিপদ-আপদের কাণ্ডারি, সুখ-দুঃখের সাথী, এটি তাদের কল্যাণে নিয়োজিত । সুতরাং নিজেদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে গতিশীল ও প্রাণবন্ত করো আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।
২. সুনাগরিকতার বিকাশ : ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে জনগনের অংশগ্রহণের ফলে জনগণের মধ্যে সুনাগরিকতার বিকাশ ঘটে। জনগণের মধ্যে সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা প্রভৃতি মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয়।
৩. নেতৃত্বের বিকাশ : ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণের ফলে সমস্যা চিহ্নিত করার ও সমাধান করার চিন্তা-ভাবনা থেকে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটতে শুরু করে।
৪. অপতৎপরতা বন্ধে : বাংলাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ের জনগণ সাধারণতদ নির্বিকার ও উদাসীন প্রকৃতির। তাদের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে টাউট ও দালাল প্রকৃতির লোকের সাধারণ মানুষের সুবিধাকে নিজেরা ভোগ করার সুযোগ গ্রহণ করে। ইউনিয়ন পরিষদে এ অপতৎপরতা বন্ধে স্থানীয় জনগণকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে সঠিক মাত্রায় অংশগ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন
৫. সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে : বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের সচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নেই বললেই চলে। তারা একবার নির্বাচিত হলে দায় সারা গোছের দায়িত্ব পালন করে মেয়াদ শেষ করেন। এরূপ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদে সচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণকে অবশ্যই ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন ।
৬. গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা : ইউনিয়ণ পরিষদে জনগণের সরাসরি, সক্রিয় ও কার্যকর সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
৭. নাগরিক বৃদ্ধির বিকাশ : ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিনিধিগণ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দল মত, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের বিভিন্ন ধরনের দাবি-দাওয়া ও অভাব অভিযোগের সম্মুখীন হন।এক্ষেত্রে নিজস্ব বিবেক, বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতা প্রয়োগের দ্বারা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হবার মাধ্যমে নাগরিক বুদ্ধির বিকাশ ঘটে।
৮. দেশপ্রেম সৃষ্টি হয় : ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণ সরকারি কাজে সেচ্ছায অংশগ্রহণের মনোভাব লাভ করে যা জনমণে দেশপ্রেম সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের অংশগ্রহণ যত বৃদ্ধি পাবে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ততবেশি সুসংসহশ হবে। কাজেই বলা যায়, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণমূলক সহযোগিতাই গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।



পরবর্তী পরীক্ষার রকেট স্পেশাল সাজেশন পেতে হোয়াটস্যাপ করুন: 01979786079

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!