অথবা, আল-ফারাবির আদর্শ রাষ্ট্রের গুণাবলি আলোচনা কর।
অথবা, আল-ফারাবি অনুসারে রাষ্ট্রদর্শন কাকে বলে? তাঁর আদর্শ রাষ্ট্রের প্রধান শাসকের গুণাবলি ব্যাখ্যা কর।
অথবা, আল-ফারাবির আদর্শ রাষ্ট্রের গুণাবলি বর্ণনা দাও।
অথবা, আল-ফারাবির আদর্শ রাষ্ট্রের গুণাবলি সম্পর্কে যা জান বিস্তারিত লেখ।
উত্তর৷ ভূমিকা :
রাষ্ট্রদর্শনে আল-ফারাবির অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আব্বাসীয় আমলে তাঁর শিক্ষাদীক্ষার বিকাশ ঘটেছিল । তিনি তুর্কিস্তানে প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর বাগদাদে আসেন এবং শিক্ষার জন্য সিরিয়া ও মিশর ভ্রমণ করেন। শেষ জীবনে হামদানী বংশের শাসক সাইফুদ্দৌলার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। তিনি অনেক মুফাসসের মুহাদ্দিস,
ধর্মতত্ত্ববিদ, সুফি সাধক, কবি, সাহিত্যিক, যুক্তিবিদ ও দার্শনিকদের সাহচর্য লাভ করেন। হযরত মুহম্মদ খোলাফায়ে রাশেদিন, বনি উমাইয়া ও আব্বাসীয় আমলে প্রতিষ্ঠিত শাসন পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন।
রাষ্ট্রদর্শন : সমাজে মানবজীবনের পূর্ণতা অর্জনের প্রয়োজনীয় কার্যাবলি, রীতিনীতি, আচারব্যবহার, আইনকানুন ইত্যাদি বিষয়ে যে বিদ্যা অনুসন্ধান করে তাকে রাষ্ট্রদর্শন বলে। দর্শনশাস্ত্রের সাহায্যে রাষ্ট্রদর্শন মানুষকে জড় জগতের নির্ভেজাল সত্য উপলব্ধি করার পথ প্রদর্শন করে এবং মানুষকে ভালো ও মন্দের পার্থক্য নির্দেশ করার পদ্ধতি শিক্ষা দেয়। রাষ্ট্রদর্শন মানুষকে নৈতিক সদ্গুণের সাথে বৌদ্ধিক ও সদ্গুণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং শাসনতান্ত্রিক কলাকৌশলের সংযোজনের মাধ্যমে মননশীলতার গুণাগুণ অর্জন করতে সাহায্য করে, যা তাকে সত্য উপলব্ধি করার সামর্থ্য প্রদান করে।এবং সর্বোচ্চ পূর্ণতা ও পরম সুখ অর্জন করতে সাহায্য করে।
আদর্শ রাষ্ট্রের প্রধান শাসকের গুণাবলি : নিম্নে আদর্শ রাষ্ট্রের প্রধান শাসকের গুণাবলি আলোচনা করা হলো :
সুন্দর স্বাস্থ্য, প্রফুল্ল মনের অধিকারী হওয়া নিখুঁত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুষ্ঠু ব্যবহার ও অন্যান্য প্রবৃত্তির সাথে এর।স্বাভাবিক সমন্বয় সাধনে সক্ষম হওয়া।
তিনি স্থান কালের প্রেক্ষিতে কোন বক্তার উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হবেন এমন তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং প্রজ্ঞার অধিকারী হওয়া।।এমন স্মরণশক্তির অধিকারী হওয়া, যার ফলে তিনি যা দেখেন, শুনেন বুঝেন ও প্রত্যক্ষ করেন তা স্মর রাখতে সক্ষম হন। তিনি উদ্ভূত সমস্যার দৃষ্টিকোণ ও প্রেক্ষিত বুঝতে পারবেন এমন বিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হওয়া।।এমন বাগ্মিতা ও বাকপটুতার অধিকারী হওয়া, যার সাহায্যে তিনি তার মনোভাব সঠিকভাবে ব্যক্ত করতে পারেন।।শিক্ষাদীক্ষার প্রতি অনুরাগ এবং সহজ, সরল, স্বাভাবিকভাবে এবং ধৈর্য সহকারে জ্ঞানলাভের অভ্যাস।।অত্যধিক আনন্দের প্রতি অনীহা, কাজকর্মে ভারসাম্যবোধ, পানাহার ও যৌন ইচ্ছার উপর নিয়ন্ত্রণ। মিথ্যা বর্জন ও মিথ্যাশ্রয়ী লোকের নিন্দা জ্ঞাপন এবং সত্য গ্রহণ এবং সত্যাশ্রয়ী লোকের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন।করার ক্ষমতা অর্জন।
সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে থেকে মহৎ মন, প্রশস্ত অন্তঃসম্পন্ন হয়ে মহানুভবতা ও উদারতার অধিকারী হওয়া। দিনার, দিরহাম ও ধনসম্পদ অর্জনের প্রতি অমনোযোগী হওয়া। ন্যায় এবং ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির প্রতি প্রকৃতিগতভাবে অনুরক্ত হওয়া এবং অন্যায়, অত্যাচার ও অত্যাচারীর কাছ থেকে দূরে অবস্থান করা। নির্ভয়ে নিঃসংকোচে, বিনা দ্বিধায় যা ভালো তা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করার ক্ষমতা, দৃঢ় সিদ্ধান্ত, অটুট মনোবল এবং সাহসিকতা অর্জন ও প্রয়োজনবোধে জিহাদ পরিচালনার ক্ষমতা।
উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনার উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, আল-ফারাবি রাষ্ট্রদর্শন রচনার পদ্ধতি অনন্য।.তাঁর চিন্তাচেতনা ক্ষেত্রবিশেষ গ্রিক দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হলেও ইসলামি মৌলিক ভাবধারাপুষ্ট। তাঁর রাষ্ট্রদর্শন আলোচনা ক ্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। তিনি আদর্শ রাষ্ট্রের প্রধান শাসকের গুণাবলি সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছেন তাও প্রশংসার দাবিদার।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!