অথবা, আত্মা সম্পর্কে আল কিন্দির বক্তব্য কী?
অথবা, আল কিন্দির আত্মতত্ত্ব কী?
অথবা, আল কিন্দির আত্মাতত্ত্ব সংক্ষেপে লেখ।
অথবা, আত্মা সম্পর্কে আল কিন্দি কী বলেন?
অথবা, আল কিন্দির আত্মাতত্ত্ব সম্পর্কে যা জান সংক্ষেপে লিখ।
উত্তর৷ ভূমিকা :
খ্রিস্টীয় নবম শতকে মুসলিম দর্শনে একটি সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে যা ‘ফালাসিফা’ বা দার্শনিকবৃন্দ বলে পরিচিত। তাঁরা ধর্মতাত্ত্বিক প্রভাব হতে নিজেদেরকে মুক্ত করে স্বাধীন চিন্তার মাধ্যমে জগৎ ও জীবনের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে দার্শনিক আলোচনায় ব্রত হন। ‘ফালাসিফা’ সম্প্রদায়ের প্রথম দার্শনিক ও চিন্তাবিধ হলেন ‘আবু ইয়াকুব-বিন-ইসহাক আল-কিন্দি’।
আত্মতত্ত্ব : আল-কিন্দর দর্শনের আলোচ্যবিষয় হচ্ছে বিশ্বতত্ত্ব অধিবিদ্যা, জ্ঞানতত্ত্ব ও আত্মতত্ত্ব। নি েতাঁর আত্মতত্ত্ব সম্পৰ্কীয় মতবাদ আলোচনা করা হলো :
আত্মতত্ত্ব সম্পৰ্কীয় মতবাদ : আল-কিন্দির মতে, আত্মা হচ্ছে একটি আধ্যাত্মিক সত্তা যা দেহ ও আধ্যাত্মিক সত্তার মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করে। অবিনশ্বর দেহাবসানের সাথে সাথে আত্মার বিনাশ ঘটে না। কারণ এ জগতে আত্মার আগমন ঘটেছে বিশ্বাত্মা থেকে। এটা অযৌক্তিক অবিনশ্বর আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিময় দ্রব্য। আত্মার দুটি অংশ রয়েছে। যথা-
১. বুদ্ধিময় আত্মা : বুদ্ধিময় আত্মা হচ্ছে উচ্চস্তরের আত্মা। এ আত্মা আসে আল্লাহ থেকে। এ কারণে এটা চিরন্তন ও শাশ্বত। আত্মা সর্বদাই বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা জ্ঞান লাভ করতে আগ্রহী বলে এর মাধ্যমে সার্বিক বিষয়ের সার ধর্মসমূহকে এবং তাদের অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞাসমূহকে জানা যায়। এ বুদ্ধিময় আত্মার কারণেই মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক।
২. জৈবিক আত্মা : জৈবিক আত্মা হচ্ছে নি শ্রেণীর আত্মা । এটা দেহের চাহিদা পূরণের জন্য যে সমস্ত জিনিসের প্রয়োজন তা মেটানোর চেষ্টা করে । আর এ প্রয়োজন মিটাতে গিয়ে মানুষ পশুর স্তরে নেমে যায়। কারণ মানুষের জৈবিক চাহিদা অপরিসীম। উপরিউক্ত সংজ্ঞার আলোকে আত্মা সম্পৰ্কীয় মতবাদের যেসব বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় তা নি েআলোচনা করা হলো :
আত্মার গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্য :
১. আত্মা অযৌগিক : আত্মা যৌগিক কোন কিছু নয় এবং কোন কিছুর সংমিশ্রণে আতা গঠিত নয়। তাই আত্মাকে ভাগ করা যায় না। আল্লাহ ও জড়জগতের মধ্যবর্তী সংযোগ সূত্র হলো বিশ্বাত্মা। এ বিশ্বাত্মা থেকেই নির্গত হয় মানবাত্মা।
২. আত্মা আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিময় দ্রব্য : আত্মা নিজে থেকেই উদ্ভূত এবং একে বুদ্ধির মাধ্যমে জানা যায়। একে অভিজ্ঞতা বা অন্য কিছুর মাধ্যমে জানা যায় না। আত্মা সম্পূর্ণরূপে আধ্যাত্মিক। আত্মার সাহায্যে দেহ কর্মক্ষম থাকে। তাই আত্মা সক্রিয় আর বস্তু নিষ্ক্রিয়।
৩. আত্মা দেহ হতে স্বতন্ত্র : প্রকৃতি প্রবণতা ও ক্রিয়ার দিক থেকে মানবাত্মা দেহের সাথে সংশ্লিষ্ট। যদিও আত্মা দেহের সাথে সংশ্লিষ্ট তবুও মূল্যের দিক থেকে আত্মা দেহের ঊর্ধ্বে। দেহ হতে স্বতন্ত্র হয়ে ইন্দ্রিয় জগতে অবস্থান করে।
আত্মা অমর : আল-কিন্দির মতে, দেহ আত্মার হাতিয়ার মাত্র। আত্মা দেহকে যখন যেভাবে পরিচালনা করে দেহ তখন সেভাবে কাজ করে চলে। এভাবে চলতে চলতে মানুষ একদিন মৃত্যুবরণ করে এবং মৃত্যুর পরে দেহ বিনষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আত্মা অমর থেকে যায়। আত্মার কোন মৃত্যু হয় না।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, দর্শনে ও বিজ্ঞানে আল-কিন্দির অবদান অপরিসীম। তিনি ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। তিনি ইসলামে নব্য প্লেটোবাদী চিন্তাধারা সঞ্চারে মৌলিক প্রতিভার পরিচয়
দেন। সুতরাং আল কিন্দির আত্মাতত্ত্বের গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না।

https://topsuggestionbd.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf/
admin

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!